
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা, বিজয়া শুভেচ্ছা বিনিময় ও অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছয়দিনব্যাপী শারদীয় উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে বিজয়া দশমীর দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। সকালে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। সংসার ও সমাজের অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় সিঁদুর খেলা। বিবাহিত সনাতন নারীরা দেবী দুর্গার কপালে ও পায়ে সিঁদুর পরিয়ে দেন। পরে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। আনন্দঘন এই আয়োজনের মধ্যেও প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করে বিদায়ের আবেগ।
সন্ধ্যার পর থেকে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে নদী, জলাশয় ও নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে প্রতিমা নিয়ে যেতে শুরু করেন পূজারিরা। ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনস্থল। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দশমী ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রায় ২০টিরও বেশি প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা সেখানে সমবেত হন। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তদের ধর্মীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঘাট এলাকা। আনন্দ-বেদনার মিশেলে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। এ সময় ঘাটে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ ও প্রিয় দেবীকে বিদায় দেওয়ার আবেগঘন মুহূর্ত।
সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় ও পঞ্জিকাগত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোটকে আগমনকে ছত্রভঙ্গ ও অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে নৌকায় গমনকে শস্যবৃদ্ধি ও জলপ্রাচুর্যের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল পাল ট্রাস্টি বলেন, এ বছর কুমিল্লা জেলায় অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক পরিবেশ ছিল প্রশংসনীয়। এ জন্য বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি আরও বলেন- বিজয়া দশমীর এই বিদায়বেলায় ভক্তদের প্রার্থনা-দেবী দুর্গা আবার ফিরে আসুন নতুন শরতে, পৃথিবী থেকে দূর হোক অশুভ শক্তি, প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ এই প্রত্যাশা করি।
