
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিষধর সাপে কামড়ে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) গিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোরী মাহমুদা৷সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানোর পর রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, সাপে কাটা ওই কিশোরীকে চিকিৎসক এন্টিভেনম প্রয়োগ না করে কিংবা জেলা সদরে রেফার্ড না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-কর্মকর্তারা বলছেন, ব্রাহ্মণপাড়ায় এন্টিভেনম না থাকায় তাকে প্রয়োগ করা যায়নি। তবে রোগীর স্বজনদের মৌখিকভবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো ‘বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর যদি তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়- তবে যেনো কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’
মাহমুদা স্থানীয় ধান্যদৌল আবদুল রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, গতশুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে ধান্যদৌল গ্রামের মোঃ ফিরুজ মিয়ার মেয়ে মাহমুদাকে বাড়ির উঠানে সাপে কামড় দেয়।পরবর্তীতেত সে অসুস্থ হয়ে পড়েলে বাড়ির লোকজন তাকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা.মোঃ জান্নাতুন নাঈম(ডা. নায়িম আবদুল্লাহ) জানান, এটা তেমন বিষাক্ত সাপ নয়। ইমারজেন্সি চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে এবার বাড়িতে চলে যাান। যদি কোন সমস্যা হয় হাসপাতালে নিয়ে আসবেন।’
পরবর্তীতে রাত ২ টার দিকে মাহমুদার অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় ব্রাহ্মণপাড়া স¦াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে৷
ধান্যদৌল এলাকাবাসীর দাবি ডাক্তারনাঈম যদি মাহমুদাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার করত তা হলে মেয়েটা মারা যেত না। তিনি যদি রোগীর সমস্যা না ধরতে পারেন;তাহলে কেন রেফার করলেন না৷ ডাক্তারের অবহেলায় মাহমুদা মারা গেছে। মাহমুদার বাবা অসুস্থ, তারা দরিদ্র মানুষ তাই বলে চিকিৎসা সেবা পাবেনা? ডাক্তারের এই অবহেলার দায় নিকে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ জান্নাতুন নাঈম(ডা. নায়িম আবদুল্লাহ) জানান, আমি রোগীকে মুখে বলেছি সমস্যা দেখা দিলে কুমিল্লা নিয়ে যাবেন। কিন্তু লিখিত ভাবে রেফার করিনি। আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। হায়াতের চিকিৎসা তো আর দেইনা। হায়াত নাই তাই মারা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, আমাদের এখানে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো ২০ ভায়াল এন্টিভেনম সংরক্ষিত আছে। ওই মেয়েটি যখন এসেছিলো আমি ছিলাম না, তাই চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে পারছি না। তখন দায়িত্বরত চিকিৎসকও একজন ভালো চিকিৎসক- কিন্তু কেন মেয়েটির মৃত্যু হলো হলো আমিও বঝতে পারছি না। তবে আমাদের অনেক সময় এমন হয় সাপে কাটারোগী অবস্থা গুরুতর হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেলে বা ঢাকায় রেফার করি।
