হজরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন হজরত ইসহাকের (আ.) নাতি। আল্লাহ তাকে নবুয়্যতের মর্যাদা দান করেছিলেন, সেই সাথে তাকে অনেক ধনসম্পদও দিয়েছিলেন। কিন্তু জীবনের এক পর্যায়ে তিনি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন, এবং ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। কোরআনে তার এই ঘটনা খুবই সংক্ষেপে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর স্মরণ করুন আমার বান্দা আইয়ুবকে, যখন তিনি তার রবকে ডেকে বলেছিলেন, শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে। (আমি তাকে বললাম) তুমি তোমার পা দ্বারা ভূমিতে আঘাত করো, এই তো গোসলের সুশীতল পানি ও পানীয়। আর আমি তাকে দান করলাম তার পরিজনবর্গ ও তাদের মত আরও অনেক; আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ এবং বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য উপদেশস্বরূপ। আমি তাকে আদেশ করলাম, এক মুষ্ঠি ঘাস নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর, আর শপথ ভঙ্গ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! নিশ্চয় সে ছিল আল্লাহ-অভিমুখী।’ (সুরা সোয়াদ : ৪১–৪৪)
কিন্তু এসব আয়াত কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে এমন আজগুবি কিছু গল্প ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলো কেবল মিথ্যাই নয়, বরং একজন নবীর মর্যাদার পুরোপুরি বিপরীত। দুঃখের বিষয় হলো ইহুদি-খ্রিষ্টানদের লোককাহিনি থেকে এসব ঘটনা অনেক তাফসিরগ্রন্থে স্থান পেয়েছে, যেখান থেকে ওয়াজ-মাহফিলে মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। যেমন জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) তার ‘আদ-দুররুল মানসুর’ কিতাবে বলেন, হজরত আইয়ুবের (আ.) পরিবার ও সম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং তার শরীরে কঠিন রোগ দেখা দিয়েছিল। তিনি সাত বছর ও কয়েক মাস এই বিপদের মধ্যে কাটান। এ সময় তাকে বনি ইসরাইলের আবর্জনার স্তূপে ফেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে তার শরীরে পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ বিচরণ করত। পরে আল্লাহ তার কষ্ট দূর করেন, তার প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং তার অবস্থা সুন্দর করে দেন।
এরপর তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। সেই বর্ণনা অনুসারে ঘটনাটি এ রকম:
একবার শয়তান আসমানে গিয়ে আল্লাহর কাছে হজরত আইয়ুবের (আ.) ওপর আধিপত্য বিস্তারের অনুমতি চাইল। আল্লাহ তাকে তার সম্পদ ও সন্তানদের ওপর ক্ষমতা দিলেন, কিন্তু তার শরীরের ওপর ক্ষমতা দিলেন না।
অনুমতি পেয়ে শয়তান পৃথিবীতে নেমে তার বাহিনীকে একত্র করল। সে বলল, ‘আমাকে আইয়ুবের ওপর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এবার তোমরা তোমাদের শক্তি দেখাও।’ তখন তার বাহিনী কখনও আগুনে, কখনও পানিতে রূপান্তরিত হতে লাগল। তারা মুহূর্তের মধ্যে পশ্চিম থেকে পূর্বে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে যেতে পারত। এরপর শয়তান তার একদল বাহিনীকে হজরত আইয়ুবের (আ.) চাষাবাদ ধ্বংস করতে, আরেক দলকে তার পরিবারের কাছে, অন্য দলকে তার উটের পালের কাছে এবং আরেক দলকে তার ছাগলের পালের কাছে পাঠাল।
এরপর একের পর এক বিপদের খবর আসতে লাগল। চাষাবাদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এসে বলল, ‘হে আইয়ুব! আপনি কি দেখছেন না, আপনার রব আপনার চাষাবাদের ওপর শত্রু পাঠিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছেন?’ উটের রাখাল এসে বলল, ‘আপনি কি দেখেননি, আপনার রব আপনার উটগুলোর ওপর শত্রু পাঠিয়েছেন এবং সেগুলো নিয়ে গেছে?’ এরপর গরুর রাখালও এসে একইভাবে জানাল, শত্রুরা তাঁর গরুগুলো নিয়ে গেছে।
এবার শয়তান তার সন্তানদের ওপর বিপদ চাপিয়ে দিল। সে হজরত আইয়ুবের (আ.) বড় ছেলের বাড়িতে তার সব সন্তানকে একত্র করল। তারা যখন সেখানে বসে খাওয়াদাওয়া করছিল, তখন প্রবল ঝোড়ো হাওয়া এসে ঘরের খুঁটিগুলোতে আঘাত করল। ঘরটি তাদের ওপর ধসে পড়ল।
শয়তান এক যুবকের রূপ ধরে হজরত আইয়ুবের (আ.) কাছে এসে বলল, ‘হে আইয়ুব! আপনি কি দেখেননি, আপনার রব আপনার সন্তানদের বড় ছেলের বাড়িতে একত্র করেছিলেন? তারা যখন খাচ্ছিল ও পান করছিল, তখন হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া এসে ঘরের খুঁটিগুলোতে আঘাত করল এবং ঘরটি তাদের ওপর ধসে পড়ল! আপনি যদি দেখতেন, তাদের রক্ত ও গোশত কীভাবে খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল!’
হজরত আইয়ুব (আ.) তার কথা শুনে বুঝতে পারলেন, এ শয়তান ছাড়া আর কেউ নয়। তিনি বললেন, ‘তুমি তো শয়তান!’ এরপর তিনি বললেন, ‘আজকের দিনে আমার অবস্থা এমন, যেন আজই আমার মা আমাকে প্রসব করেছেন।’ তারপর তিনি উঠে নিজের মাথা মুণ্ডন করলেন এবং নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। তার এই অবিচলতা দেখে ইবলিস এমন বিকট চিৎকার দিল, যার আওয়াজ আসমান ও জমিনের সবাই শুনতে পেল।
এরপর শয়তান আবার আসমানে গিয়ে আল্লাহকে বলল, ‘হে আমার রব! আইয়ুব তো নিজেকে রক্ষা করেছেন। আপনার ক্ষমতা ছাড়া আমি তাকে কাবু করতে পারছি না। এবার তার শরীরের ওপর আমাকে ক্ষমতা দিন।’ আল্লাহ তাকে হজরত আইয়ুবের (আ.) শরীরের ওপর ক্ষমতা দিলেন, কিন্তু তার হৃদয়ের ওপর কোনো ক্ষমতা দিলেন না।
অনুমতি পেয়ে শয়তান পৃথিবীতে নেমে হজরত আইয়ুবের (আ.) পায়ের নীচে ফুঁ দিল। এর ফলে তার দুই পা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত শরীর ঘায়ে ভরে গেল। ঘাগুলো একসময় একটি বিশাল ঘায়ে পরিণত হলো। তাকে ছাইয়ের ওপর ফেলে রাখা হলো। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, তার হৃদপিণ্ডের আবরণ পর্যন্ত প্রকাশ পেয়ে গেল।
এ সময় তার স্ত্রী তাঁর সেবা-শুশ্রƒষা করতেন। তাকে দেখাশোনা করতে গিয়ে তিনি নিজেও চরম দুর্ভোগে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি হজরত আইয়ুবকে (আ.) বললেন, ‘আপনি কি দেখছেন না, আমার ওপর ক্ষুধা ও চরম কষ্ট নেমে এসেছে? আল্লাহর কসম, যদি আমি আমার চুলের বিনিময়ে একটি রুটি পেতাম, তবে তা আপনাকে খাওয়াতে পারতাম। তাই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন আপনাকে সুস্থ করে দেন এবং এই কষ্ট থেকে মুক্তি দেন।’
স্ত্রীর কথা শুনে হজরত আইয়ুব (আ.) বললেন, ‘আফসোস তোমার জন্য! আমরা সত্তর বছর সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে কাটিয়েছি। তাই আমাদের সত্তর বছর এই কষ্টের মধ্যেও ধৈর্য ধরতে হবে।’ এভাবে তিনি নিজের বিপদে ধৈর্য ধারণ করলেন।
একই বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, সাত বছর এই বিপদের মধ্যে কাটানোর পর হজরত আইয়ুব (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। একদিন জিবরাইল (আ.) এসে তার হাত ধরলেন এবং বললেন, ‘উঠে দাঁড়ান।’ তিনি উঠে দাঁড়ালে জিবরাইল (আ.) তাকে তার স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে বললেন, ‘আপনার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করুন। আপনার গোসল ও পান করার জন্য শীতল ঝরনা বের হবে।’ হজরত আইয়ুব (আ.) পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন। তখন একটি পানির উৎস বের হলো। জিবরাইল (আ.) তাকে সেই পানি দিয়ে গোসল করতে বললেন। তিনি গোসল করলেন।
তখন জিবরাইল (আ.) আবার এসে বললেন, ‘আপনার পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করুন।’ এবার আরেকটি ঝরনা বের হলো। তিনি তাকে সেখান থেকে পানি পান করতে বললেন। এ ঘটনার সঙ্গেই যুক্ত করা হয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘আপনি আপনার পা দ্বারা ভূমিতে আঘাত করুন, এই তো গোসলের সুশীতল পানি ও পানীয়।’
এরপর আল্লাহ তাআলা হজরত আইয়ুবকে (আ.) জান্নাতের একটি পোশাক পরিয়ে দেন। তিনি একপাশে সরে গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী সেখানে এসে তাকে চিনতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা, এখানে যে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিটি ছিলেন, তিনি কোথায়? হয়তো কুকুর বা নেকড়েরা তাকে নিয়ে গেছে!’ এভাবে তিনি তার সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললেন। তখন হজরত আইয়ুব (আ.) বললেন, ‘আফসোস তোমার জন্য! আমিই তো আইয়ুব!’ এরপর তিনি জানালেন, আল্লাহ তার শরীর সুস্থ করে দিয়েছেন এবং তার সম্পদ ও সন্তানসন্ততিও ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, সেগুলোর সমপরিমাণ আরও সম্পদ ও সন্তানসন্ততি তাকে দান করেছেন। (আদ-দুররুল মানসুর, ৭/১৯১-১৯৩)
তাফসিরে ইবনে কাসিরে উল্লেখ আছে:
হজরত আইয়ুবের (আ.) সারা শরীরে কুষ্ঠরোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। আল্লাহর জিকির করার জন্য তার মুখ ও হৃৎপিণ্ড (কলব) ছাড়া শরীরের আর কোনো অংশ সুস্থ ছিল না। তার এমন দুরবস্থা দেখে কাছের মানুষরাও তাকে ছেড়ে চলে যায়। তাকে শহরের এক কোণে একঘরে করে রাখা হয়। তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ তার সেবা করার জন্য এগিয়ে আসেনি। একসময় তার স্ত্রীও অভাবের মুখে পড়েন। স্বামীর দেখাশোনা ও খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য তাকে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হতো।
ইবনে কাসির (রহ.) এরপর হাসান বসরি ও কাতাদাহর (রহ.) সূত্রে বলেন, হজরত আইয়ুব (আ.) সাত বছর ও কয়েক মাস ধরে এই বিপদের মধ্যে ছিলেন। তাকে বনি ইসরাইলের ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে তার শরীরে পোকামাকড় বিচরণ করত। আস-সুদ্দি (রহ.) বলেন, হজরত আইয়ুবের (আ.) শরীরের গোশত খসে পড়েছিল। এক পর্যায়ে তার শরীরে শুধু শিরা ও হাড় অবশিষ্ট ছিল। (তাফসিরে ইবনে কাসির, ৫/৩১৫-৩১৬)
সত্যতা যাচাই
‘আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল-মাওদুআত’ গ্রন্থে শায়খ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ (রহ.) এসব ঘটনার খুব কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, আল্লাহ তাআলা হজরত আইয়ুবকে (আ.) শরীর, পরিবার ও সম্পদের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন, এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেন-মৌলিকভাবে এগুলোই আমাদের আকিদার অংশ। এর বেশি যা বলা হয়, কোনোকিছুই সত্য হওয়া সম্ভব না।
তার প্রধান কারণ হলো, হজরত আইয়ুব (আ.) অত্যন্ত সম্মানিত নবী ছিলেন। আর নবীগণকে আল্লাহ তাআলা সব সময় শারীরিক ও সামাজিক এমন দোষ থেকে মুক্ত রেখেছিলেন, যার কারণে মানুষ তাদের থেকে দূরে সরে যায়, এবং দাওয়াতি কাজ করতে গেলে বংশীয় ও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে ঠাট্টা করতে পারে। আর সব নবীকে আল্লাহ তাআলা উচ্চবংশে পাঠিয়েছেন, আকার-আকৃতিতে সবাই ছিলেন সুদর্শন।
তাই কীভাবে হজরত আইয়ুব (আ.) এমন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে, তাকে ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা হয়েছিল? এ ধরনের অপমানজনক অবস্থা তার ক্ষেত্রে সত্য হলে নবুওয়তের উদ্দেশ্য কীভাবে পূরণ হতো? তার আত্মীয়স্বজন ও গোত্রের লোকেরাই বা কোথায় ছিলেন, যারা তাকে আশ্রয় ও খাবার দিতে পারতেন? তার স্ত্রীকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে উপার্জন করতে হয়েছিল, এমনকি তাকে খাওয়ানোর জন্য মাথার বেণী বিক্রি করতে হয়েছিল-এমন বর্ণনা কীভাবে একজন নবীর মর্যাদার সাথে মানায়? তার অনুসারী ও ইমানদাররা কি এই বিপদের সময় তাকে পরিত্যাগ করেছিলেন?
বাস্তবতা হলো, এসব কাহিনি যেমন নির্ভরযোগ্য সনদে প্রমাণিত নয়, সুস্থ বিবেকও এর সমর্থন করে না। আইয়ুব (আ.) যদি কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে তা এমন রোগ ছিল না, যা মানুষকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বরং সেই রোগটি হয়তো বাতের ব্যথা, গিঁটের ব্যথা বা হাড়ের কোনো অসুখের মতো ছিল, যার আলামত শরীরের ওপর থেকে দেখা যায় না। তবে এটিও কেবল ধারণা, নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়।
শায়খ তাবরাসি (রহ.) বলেন, ‘গবেষক আলেমদের মতে, নবীদের এমন কোনো শারীরিক অবস্থা হওয়া স্বাভাবিক নয়, যা দেখে মানুষ ঘৃণা বোধ করে। কারণ, এতে মানুষ তাদের থেকে দূরে সরে যেতে পারে। তবে দারিদ্র্য, রোগ-ব্যাধি ও পরিবার-পরিজন হারানোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাদের পরীক্ষা করতে পারেন।’
ইমাম ইবরাহিম আল-লাক্কানি (রহ.) ‘হিদায়াতুল মুরিদ’ গ্রন্থে বলেন, ‘নবীদের (আ.) এমন সব মানবীয় শারীরিক অবস্থা দেখা দিতে পারে, যা মর্যাদাহানিকর নয়, দীর্ঘস্থায়ী নয়, মানুষের স্বভাব যাকে ঘৃণা করে না এবং যা মানুষকে তাঁদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না।’ (আল-ইসরাইলিয়্যাত ওয়াল-মাওদুআত, ২৮১-২৮২)
মূল কথা হলো, কোরআন-হাদিসে যতটুকু আছে, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। আর ইবনে আব্বাস (রা.) যা বলেছেন, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে আসেনি। অন্যদিকে নির্ভরযোগ্যে সূত্রে বর্ণিত আছে যে, ইবনে আব্বাস (রা.) ইহুদি-খ্রিষ্টানদের কাছে থেকে নবীগণের ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি: ৭৫২২)
ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বর্ণনার ব্যাপারে মৌলিক নীতি হলো, তাদের কোনো বক্তব্য যদি নবী-রাসুলের মর্যাদার বিপরীত হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে না। তাই হজরত আইয়ুবের (আ.) কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়া, সারা শরীর ঘায়ে পরিণত হওয়া, শরীরে পোকামাকড় বিচরণ করা কিংবা ময়লার স্তূপে পড়ে থাকার বিবরণ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নাই। এসব কেচ্ছা-কাহিনিকে ‘শিক্ষণীয় ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করাও যাবে না।
