শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩
অন্যের কাছে আপনাকে প্রিয় করে তুলবে যে ৪ গুণ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম |


মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা বন্ধুমহলে সবারই চাওয়া থাকে, অন্যরা যেন তাকে ভালোবাসে, সম্মান করে এবং আপন মনে করে। কিন্তু মানুষের কাছে প্রিয় হওয়ার জন্য সব সময় অর্থ, ক্ষমতা কিংবা বিশেষ কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। বরং ছোট ছোট কিছু আচরণ মানুষের হৃদয়ে গভীর জায়গা করে নিতে পারে। ইসলামে এসব সুন্দর আচরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 
সালাম দেওয়া, হাসিমুখে কথা বলা, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনা এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এমন চারটি গুণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর করার পাশাপাশি সওয়াব অর্জনেরও মাধ্যম।
১. সালাম দিন
সালাম শুধু সম্ভাষণ নয়; এটি অন্যের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনার উপায়। পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আদব। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে অথবা জবাবে অনুরূপ বলবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর পরস্পরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত তোমরা মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? তোমাদের মধ্যে সালামের প্রচলন ঘটাও।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৪)
সালাম মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ব বাড়ায়। তাই অহংকার কিংবা সংকোচের কারণে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়।
২. হাসিমুখে কথা বলুন
রূঢ় আচরণ ও বিরক্তিকর কথাবার্তা সুন্দর সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি করে। তবে একটু হাসি মানুষের মন ভালো করে দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও সদকা।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৬)
অর্থাৎ, মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে মেশাও ইসলামের দৃষ্টিতে পুণ্যের কাজ। হাসিমুখে কথা বলা মানে কৃত্রিম আচরণ নয়; বরং অন্যকে সম্মান দেওয়া, নম্র থাকা এবং নিজের কথায় কাউকে অকারণে কষ্ট না দেওয়া। 
৩. মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনুন
কেউ কথা বলার সময় মাঝপথে বাধা দেওয়া, মনোযোগ না দেওয়া কিংবা নিজের কথা চাপিয়ে দেওয়া অন্যকে অসম্মানিত বোধ করাতে পারে। মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা মানুষকে বোঝার এবং তার অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর অন্যতম উপায়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতএব, তুমি সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদের, যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম, তা অনুসরণ করে।’ (সুরা যুমার, আয়াত: ১৭-১৮-এর ভাবার্থ)
আয়াতগুলোতে উত্তম কথা শোনা ও তা অনুসরণের প্রশংসা করা হয়েছে। তাই কারও কথা শোনার সময় ধৈর্য ধরুন, প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করুন এবং তার বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করুন। এতে পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।
৪. বিপদ-আপদে সহযোগিতা করুন
সুখের সময়ে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই প্রকৃত আন্তরিকতার পরিচয় দেয়। ইসলাম মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)
কারও আর্থিক সংকটে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া, বিপদগ্রস্ত মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা কিংবা প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো—সবই সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। তবে সহযোগিতা হতে হবে ন্যায়সংগত ও কল্যাণকর কাজে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২