বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩
দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিতে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে বাংলাদেশে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।’
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানো সম্ভব হবে।
দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্যের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অতীতে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এ বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জনগোষ্ঠী নিশ্চিত করাও জরুরি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২