মো. হাবিবুর রহমান ।।
কুমিল্লার মুরাদনগরের কৃতি সন্তান, বাইড়া মোহাম্মদ আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা কালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুরাদনগর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহিদুল হক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্রছাত্রী রেখে গেছেন।
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও শহিদুল হক একাধারে একজন বীর যোদ্ধা, প্রবীণ সাংবাদিক এবং সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। বাইড়া মোহাম্মদ আরিফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ সময় মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সরকারি তালিকাভুক্ত মাসিক 'জয়ভেরি' পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মুরাদনগর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পরিচালক এবং কুমিল্লা জেলা সম্পাদক পরিষদের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শহিদুল হকের মৃত্যুতে মুরাদনগরের সাংবাদিকতা ও শিক্ষা অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে’।
