বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩
নিহত ৩ পর্যটকের কেউই সাঁতার জানতেন না, অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ যায়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম |

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ির অনিরাপদ পয়েন্টে গোসলে নেমে সাগরের ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। তবে এসব পর্যটকের কেউই সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির ম্যারিনা রিসোর্টের জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম।
নিহতরা হলেন আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩)। স্থানীয় লোকজন তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রথমে ভেসে যেতে থাকাদের মাঝে একজন নিহতের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে একজনের নাম এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)। তবে অপরজনের পরিচয় এখনো জানাতে পারেনি প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার উত্তরা থেকে সাত তরুণ সামিন ইসরাত নাফি (২৩), রুহুল আমিন শাফি (২৩), ঐশ্বর্য অক্ষর (২৩), সুফি আমিন নাবিল (২২), আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), সাইবুল হক জিসান (২৩) ও এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩) বান্দরবানের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছান তারা।
কক্সবাজার শহরের পরিবর্তে তারা দুপুর ১টার দিকে হিমছড়ি প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন ‘সৌরণেষ্ট’ নামের রিসোর্টে ওঠেন এবং খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিশ্রাম নেন। আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে হিমছড়ি জাদুঘর সংলগ্ন সমুদ্রে গোসল করতে যান তারা। কিন্তু এটা গোসল করার জোন ছিল না।
সূত্র আরও জানায়, গোসলে নামা সাতজনের কেউই সাঁতার জানতেন না। গোসলে নেমে খেলার সময় তাদের কাছাকাছি গোসলরত আরও ৩-৪ জন যুবককে পানিতে ডুবে যেতে দেখে এসব তরুণ সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। এসময় সাতজনই স্রোতের কবলে পড়ে পানিতে ভেসে যেতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় একজন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অন্য পর্যটকদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছে বিচ কর্মী, লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৯টা) নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের একটি দল হিমছড়ির মারিনা রিসোর্টের জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নেমেছিল। গোসলের সময় তারা ঢেউ ও স্রোতে ভেসে যান। এসময় স্থানীয় লোকজন একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো আরও দুজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের পুলিশ সুপার নিশাদ এঞ্জেলা বলেন, ‘জানতে পেরেছি সৈকতের ওই পয়েন্টটি গোসলের জন্য প্রসিদ্ধ নয়। আগে কেউ সেখানে গোসল করেননি এবং ওখানকার অবস্থা সম্পর্কে অজানা। আরও আশ্চর্যের বিষয়, যেসব তরুণ গোসলে নামেন তারা কেউ সাঁতার জানতেন না বলেও তথ্য এসেছে। এটা করা চরম বোকামি।’
তিনি বলেন, আমাদের অনুরোধ ঘুরতে এসে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যেটা আনন্দকে মুহূর্তে বিষাদে রূপান্তর করে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ইনানীর পাটুয়ারটেকে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহতের ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি। এরইমাঝে হিমছড়ি সৈকতের অনিরাপদ স্থানে গোসলে নেমে তিনজনের মৃত্যু এবং দুজন নিখোঁজের ঘটনার পর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরের ঢেউ ও স্রোতে পর্যটকদের ভেসে যাওয়ার এ ঘটনা সৈকতে যেখানে সেখানে গোসলে নামতে সতর্ক থাকার বিষয়টি আবারও সামনে আসছে। বিশেষ করে সাগরের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে পানিতে নামা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২