রণবীর ঘোষ কিংকর।
সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের চিরন্তন শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গার আরাধনায় আজ মহাষ্টমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের এ বছরের ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় মহাষ্টমী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। আজ সোমবার মহাষ্টমীর পূজার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী সন্ধিপূজা। তবে এ বছর কুমিল্লার রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না কুমারী পূজা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিশেষ তিথি ও ক্ষণে দেব-দেবীর আরাধনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। শাস্ত্রীয় বিধান ও প্রচলিত রীতি অনুসরণ করে দুর্গাপূজার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে পুষ্পাঞ্জলি অন্যতম। ফুল নিবেদনের মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও প্রার্থনা নিবেদন করেন। মহাষ্টমীর দিন পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতিতে পুষ্পাঞ্জলি ও পূজার অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৬ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী। মহাষ্টমী ও মহানবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। মহাষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং মহানবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট এই ৪৮ মিনিটের বিশেষ ক্ষণকে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, এ সময় দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপের আরাধনা করা হয়। যে কারণে আজ সকাল ৭টা ৫২ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী পূজা শেষে সন্ধি পূজা শুরু হবে।
পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সন্ধিক্ষণেই দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করেন। সেই পৌরাণিক ঘটনাকে স্মরণ করে সন্ধিপূজায় দেবীকে বিশেষ উপাচারে পূজা করা হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এ পূজায় ১০৮টি পদ্ম নিবেদন এবং ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় এই পূজায় ভক্তরা দেবীর কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ ও কল্যাণ কামনা করেন।
অন্যদিকে, মহাষ্টমীতে কোনো কোনো স্থানে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যে কুমারীকে দেবীশক্তির জীবন্ত প্রতীক হিসেবে শ্রদ্ধা ও পূজা করা হয়। তবে এ বছর কুমিল্লার রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজার আয়োজন থাকছে না।
কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলায় মোট ৮৬০টি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমায় পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহাষ্টমী উপলক্ষে পূজা মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে দেবীর আরাধনায় অংশ নেবেন ভক্তরা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই পবিত্র তিথিতে দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা অশুভ শক্তির বিনাশ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বমানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করছেন।
কুমিল্লা রামকৃষ্ণ মিশন এর সভাপতি অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন ভৌমিক জানান, ৫০ এর দশকে তিন বছর কুমিল্লায় কুমার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৭ সালে ভারতের বেলুর মঠ কুমিল্লা রামকৃষ্ণ মিশনকে অধিগ্রহণ করায় ২০১১ সাল থেকে কুমিল্লাতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার প্রভাব থাকায় ওই দুই বছর কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বছর বিভিন্ন অসুবিধার কারণে এবং লোক সমাগম ঠেকাতে কুমারী পূজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
