প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ এএম আপডেট: ১৮.১০.২০২৬ ২:০২ এএম |
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা সদরের ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি তৌহিদ ও তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে তৌহিদকে কুমিল্লা নগরীর নুরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তানজিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। তৌহিদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসআরবি-১১, কুমিল্লা সিপিসি-২ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান।
পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান জানান, কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন ছত্রখিল এলাকার উপজেলা মডেল মসজিদের বিপরীত দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে তানজির ও তাঁর আপন ছোট ভাই তৌহিদের সঙ্গে কাউছার ও শামীমের বিরোধ চলছিল।
ঘটনার দিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে তৌহিদ ও তানজিরসহ কয়েকজন ওই স্থানে কফি শপ তৈরির কাজ করছিলেন। এ সময় কাউছার, শামীমসহ আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তৌহিদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন কাউছার ও শামীমের ওপর হামলা চালান।
পুলিশ জানায়, তৌহিদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউছারকে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় কাউছার ও শামীমসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত কাউছারকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরপুর এলাকা থেকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এলাকা থেকে তানজিরকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।
এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতার হাতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দ্রুত আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।