কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকট চরম আকার ধারণ করছে। ২০ বছর পর এক্সরে মেশিন বরাদ্দ হলেও এখনো নেই সেটির অপারেটর। জুনিয়র কনসালেেটন্ট (সার্জারী), আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নাস, মিডওয়াইফ, মেডিক্যাল ট্যাকনোলজিস্ট (ল্যাব), মেডিক্যাল ট্যাকনোলজিস্ট (রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং), ফার্মাসিস্ট, স্টোর কিপার, স্বাস্থ্য সহকারী, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীসহ ৭৩ টি পদের মধ্যে ২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এসব শূন্যপদ পূরন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল পদায়ন করলে প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোক উপকৃত হবে।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগ চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে অন্তঃবিভাগ চালু করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা শাখা-১ এর স্মারক নং ৪৫.০০.০০০০.১৬০.৯৭.০০৪.২০.১০ তারিখঃ ৪ জানুয়ারি ২০২২ খ্রি. মোতাবেক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুকরণের প্রশাসনিক অনুমোদন জ্ঞাপন করা হয় এবং সে মোতাবেক বর্তমানে সেবা কার্যক্রম বিদ্যমান রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ২০ মে তৎকালীণ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত মিজানুর রহমান সিন্হা উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে সাবেক কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌর উন্নয়ন কমিটির সদস্য হাজী আনোয়ার উল্লাহ’র বাড়িতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে একই বছরের ১৭ অক্টোবর শ্রীমন্তপুর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থায়ী ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীণ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ও বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি ও সাবেক কুমিল্লা-৯ নির্বাচনী এলাকার (বর্তমানে কুমিল্লা-৬ আসনের) সংসদ সদস্য জননেতা মো. মনিরুল হক চৌধুরী।
২০০৭ সাল থেকে সীমিত পরিসরে জরুরী বিভাগ ও আউটডোর বিভাগে রোগীদের সেবা প্রদান করে আসছে উক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৫ বছর পর ২০২১ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অন্তঃবিভাগ চালু করা হয়। যার ফলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণের নয়টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষাধিক জনতা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশর্^বর্তী উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার ফলে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।
উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৭৭ জন রোগী ইনডোর, ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৭২ জন রোগী আউটডোর, ১০ হাজার ৬৭ জন রোগী জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। এসময় ইউজার ফি আদায় হয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৭২ টাকা। ২০২৪ সালে ৩ হাজার ২৬ জন রোগী ইনডোর, ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৬ জন রোগী আউটডোর, ১০ হাজার ৬৪৯ জন রোগী জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। এতে ইউজার ফি আদায় হয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪৫ টাকা। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৭০৩ জন রোগী ইনডোর, ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৩ জন রোগী আউটডোর, ১০ হাজার ৬০৮ জন রোগী জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। এতে ইউজার ফি আদায় হয়েছে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৮ টাকা। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ২ হাজার ৫১৮ জন রোগী ইনডোর, ১ লাখ ১ হাজার ৬৭৯ জন রোগী আউটডোর, ১০ হাজার ১১৯ জন রোগী জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। এতে ইউজার ফি আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৪ টাকা। অর্গ্রানোগ্রাম অনুযায়ী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ সংখ্যা ৭৩ টি। এর মধ্যে ২৬ টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) একটি, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার একটি, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার একটি, সিনিয়র স্টাফ নার্স চারটি, মিডওয়াইফ দুইটি, মেডিক্যাল ট্যাকনোলজিস্ট (ল্যাব) একটি, মেডিক্যাল ট্যাকনোলজিস্ট (রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং) একটি, ফার্মাসিস্ট একটি, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক একটি, স্টোর কিপার একটি, স্বাস্থ্য সহকারী চারটি, আয়া একটি, কুক/মাশালছি দুইটি, দারোয়ান একটি, মালী একটি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তিনটি পদ শূন্য রয়েছে।
কুক পদ ২টি শূন্য থাকলেও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় ২০ বছর পর এক্সরে মেশিন বরাদ্দ পাওয়া গেলেও এর জন্য নেই অপারেটর। যার ফলে রোগীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব শূন্যপদ পূরন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর জনবল পদায়ন করার জোরদাবী দাবী জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও বর্ধিত শয্যায় সেবা কার্যক্রম চালুকরণ করা হলেও অদ্যাবধি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবলের কোন পদ সৃষ্টি হয় নাই। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল দিয়ে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত জনবল পদায়ন করা হলে সেবা প্রত্যাশি নাগরিকদের আরও উন্নত সেবা প্রদান সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যকম শুরু হওয়ার দীর্ঘ সময় পর এক্সরে মেশিন বরাদ্দ পেলেও অপারেটরের অভাব এখনো পুরন হয়নি।
