
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার অতি নিকটে৷ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এ বছর ২৩ টি পূজা মন্ডপে এ শারদীয় দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে৷ গত বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭ টি পূজা মন্ডপ ছিল৷ এবছর তা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৩ টিতে৷ অর্থাৎ বিগত বছর গুলোর তুলনায় ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ছে পূজা৷ এ বছর পূজার সংখ্যা বাড়ায় প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে কয়েকগুণ। দিন-রাত এক কর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শেষ মুহূর্তে রংতুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে শক্তির দেবী রূপ; একই সঙ্গে ফুটে উঠছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। আজ ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিনে দেবী বোধন ও ষষ্ঠীকল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বৃহৎ এই উৎসব। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বৃহৎ এই উৎসবের। এ সময় ঢাক-কাসা আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে প্রতিটি মণ্ডপ। এ বছর ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৩ টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে৷ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবেচেয়ে বৃহৎ উৎসবকে ঘিরে সনাতনীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে ধর্মপ্রাণ পুণ্যার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রস্তুতির শেষ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ও বাসাবাড়িতে প্যান্ডেলিং, ডেকোরেশন ও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় চলছে। বিশেষ করে সময় বেশি না থাকায় প্রতিমা শিল্পীর ব্যস্ততা এখন দিন ও রাতজুড়ে চলছে৷ প্রতিমা শিল্পী অনুপম জানান , হাতে সময় খুব কম ষষ্ঠী পূজার আগে প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা পৌছে দিতে হবে। প্রতিমার মাটির কাজ শেষ এখন রংতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গার স্বরূপ ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তবে খড়, বাঁশ, রঙ, এটেল ও দোআঁশ মাটিসহ উপকরণের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ সে অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়েনি। আমরা বংশ পরম্পরার অংশ হিসেবে প্রতিমা তৈরি করি। এটি আমাদের আনন্দের অংশ। লাভ-লোকসানের চিন্তা করি না। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল সরকার জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের আয়োজক কমিটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। আমরা তাদের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলেছি। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের পাশাপাশি ভলেন্টিয়ার ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রয়েছে৷ ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফারুক হোসেন বলেন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজা মন্ডপে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য থাকবে৷ মন্ডপের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকদের সাথে একাধিক বার মিটিং করা হয়েছে৷ ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বউচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন সেজন্য পুলিশের টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে।
