নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক চেতনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কুমিল্লায় মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন, কুমিল্লার উদ্যোগে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ আয়োজন করা হয়। ব্যবস্থাপনায় ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কুমিল্লা।
প্রতিযোগিতায় জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারীরা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
মাদ্রাসা পর্যায়ে ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ক ও খ বিভাগে নজরুলের ইসলামি সংগীত, হামদ-নাত, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ে একাদশ-দ্বাদশ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নজরুলসংগীত, একক অভিনয়, নৃত্য, নজরুলের কবিতা আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বদরুল হুদা জেনু, ইশতিয়াক আহমেদ পল্লব, শহিদুল হক সোহেল, মিলন হোসেন, জামিল আহমেদ খন্দকার, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আফরোজা খান মিতা, আল আমিন মীর, কাশেদুল হক, লক্ষ্মী দে, দিবা নুর নাহার রজনী, ফাতিহা বিনতে বশির, পুষ্পিতা মৌ, একরামুল হক, আব্দুল্লাহ আল নোমান, কামরুল হাসান ও কাউছার হকসহ অন্যরা।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন এবং কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীরা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেবে।
আগামী ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন এবং মাধ্যমিক ও কারিগরি পর্যায়ের বিভাগীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।
উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
