
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে কুমিল্লাজুড়ে। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠছে পূজা মণ্ডপগুলো। দুর্গা পূজায় ভক্ত-দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র মণ্ডপের দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা। তাই দেবী বন্দনার পাশাপাশি মণ্ডপের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর, শিল্পী ও আয়োজকরা।
কুমিল্লার ৮৬০টি পূজামণ্ডপকে ঘিরে চলছে সাজসজ্জা, তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও নান্দনিক শিল্পকর্ম তৈরির প্রস্তুতি।
পূজা মণ্ডপের প্রধান ফটকে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ, মণ্ডপের সামনে ছাউনি তৈরি, ককশিট দিয়ে পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কোথাও চলছে কাঠামো তৈরির কাজ, কোথাও ককশিট কেটে নিপুণ হাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন নকশা। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে রং করা, অলংকরণ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় সাধারণ কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে দৃষ্টিনন্দন পূজা মণ্ডপে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নান্দনিক সাজসজ্জা, বৈচিত্র্যময় শিল্পকর্ম ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এবারও ভক্ত-দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করবে কুমিল্লার পূজা মণ্ডপগুলো। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবের আনন্দ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। এমন সাজ সজ্জায় পূজার বাজেটও বাড়ছে কয়েকগুণ।
কুমিল্লা মহানগরীর রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপে এবার ককশিট দিয়ে পাহাড় ও সমুদ্রের আবহ ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। মণ্ডপের নকশায় প্রকৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেবী দুর্গার আরাধনার উপযোগী নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট কারিগররা। মণ্ডপের প্রধান ফটকে ককশিট দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির তোরণ। পরিকল্পিত নকশা ও শিল্পকর্মের সমন্বয়ে মণ্ডপটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
ককশিটের মতো উপকরণ ব্যবহার করে পাহাড়, সমুদ্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশের আদল তৈরি করা মণ্ডপসজ্জায় নতুনত্ব যোগ করছে। নিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে এসব দৃশ্যকে বাস্তবসম্মত করে তোলার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে ভেতরের সাজসজ্জা পর্যন্ত প্রতিটি অংশে নান্দনিকতার ছাপ রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন আয়োজকরা।
শিল্পীদের এমন শিল্প কর্ম মণ্ডপসজ্জা শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির মাধ্যম নয়; এটি শিল্পীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা প্রকাশেরও একটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বাঁশ, কাঠ, কাপড়, ককশিট, রং ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করে তারা তৈরি করছেন নানা নকশা ও কাঠামো। এসব শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে পূজামণ্ডপগুলোকে ভিন্নমাত্রায় সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন আয়োজকরা। পূজা মণ্ডপের সাজসজ্জায় প্রতিবছরই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন আয়োজকরা।
কুমিল্লার ৮৬০টি পূজামণ্ডপে চলমান প্রস্তুতি শেষ হলে মণ্ডপগুলোতে উৎসবের পূর্ণ আবহ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূজার দিনগুলোতে এসব মণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের পদচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রতিটি মণ্ডপের স্বতন্ত্র সাজসজ্জা ও শিল্পকর্ম কুমিল্লার শারদীয় দুর্গোৎসবকে আরও বর্ণিল করে তুলবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
