
কুমিল্লায় বাণিজ্য মেলার নামে জুয়া, লটারি ও জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগের মধ্যে শুক্রবার থেকে মেলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মেলামুখী লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিত করেছে হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগর। তবে শুধু মেলা বন্ধ করেই বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে না উল্লেখ করে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, হুমকি-ধমকির অভিযোগ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় কুমিল্লা মহানগরীর পূবালী চত্ত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মেলামুখী লংমার্চ কর্মসূচী স্থগিত করণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গত বছর কুমিল্লায় বাণিজ্য মেলার নামে টিকিট বিক্রি, কথিত লটারি ও জুয়ার আয়োজনসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রম নিয়ে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিবাদের মুখে প্রায় দুই মাস পর ওই মেলা বন্ধ হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতার পর চলতি বছর মেলা শুরুর আগে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়। সংগঠনটির দাবি, পরবর্তী সময়ে মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলেমদের আলোচনায় মেলায় জুয়ার আয়োজন না রাখা, মেলার বাইরে টিকিট বিক্রি বন্ধ, দৈনিক কুপন বা লটারির ব্যবস্থা না করা এবং অশ্লীল ও অনৈতিক বিনোদনের সুযোগ না দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই সে সময় কঠোর কর্মসূচি থেকে বিরত ছিলেন তাঁরা। তবে মেলা শুরুর কিছুদিন পর এসব প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থানে টিকিট ও কুপন বিক্রি এবং লটারি ও জুয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। এসব বন্ধে বারবার অনুরোধ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এসব কার্যক্রমে বাধা দিতে গেলে আলেম ও সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে টিকিট বা কুপন বিক্রিতে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী মহলের পরিচয় জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের ঢাল হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ কাউকে হয়রানি না করার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগরের উদ্যোগে জুয়ার কার্যক্রম বন্ধ এবং মেলা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর ওই দিন রাতেই লটারির কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এবং শুক্রবার রাতের মধ্যে মেলা সমাপ্ত করার ঘোষণা আসে। এ পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবারের লংমার্চ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে চারটি দাবি তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগর। দাবিগুলো হলো-চলতি বছর মেলার নামে জুয়া, লটারি, কুপন বিক্রি ও আইনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; এসব কার্যক্রমে বাধা দেওয়ায় আলেম ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা; এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক কেউ, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অন্য কোনো মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং আগামী বছর থেকে কুমিল্লায় বাণিজ্য মেলার নামে জুয়া, লটারি, কুপনভিত্তিক পুরস্কার কিংবা অনৈতিক ও জনস্বার্থবিরোধী আয়োজন বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেুাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শহর কুমিল্লায় এ ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ ওঠা এবং সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। জুয়ার আয়োজন মানুষের, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেওয়া সাধারণ মানুষ এবং অভিযোগগুলো তুলে ধরায় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় সংগঠনটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এবারের ঘটনা শুধু একটি মেলা বন্ধ হওয়ার বিষয় নয়; ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এটি একটি শিক্ষা। আগামী বছর কুমিল্লায় বাণিজ্য মেলার নামে জুয়া, লটারি কিংবা অনৈতিক আয়োজন যেন আর না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে এখনই কার্যকর ও স্থায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, সেক্রেটারি মাওলানা মনিরুল ইসলাম কাসেমী, কুমিল্লা আহলে সুন্নাতুল জামাত ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান কাসেমী, মুফতি তাওহিদুল ইসলাম, মাওলানা ইসহাক, মাওলানা মারুফ রহমান, মাওলানা আনিস বিন আজিজ, হাফেজ মাওলানা বাহাউদ্দিন, মাওলানা জিয়াউদ্দিন গালিবসহ হেফাজণ ইসলাম মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
