
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের দৌলতেরকান্দি গ্রামের তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে এবং দৌলতেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সৌরবিদ্যুৎচালিত সম্পূর্ণ অটোমেশন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে সহজেই নিরাপদ ও সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে পারবেন স্থানীয় বাসিন্দা, মুসল্লি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। চীনা প্রযুক্তিতে স্থাপিত এই আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্মার্ট কার্ড পাঞ্চ করলেই নির্ধারিত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অটোমেশন হওয়ায় পানি সংগ্রহে মানুষের সরাসরি সহায়তার প্রয়োজন হবে না।
প্রকল্পটির ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার তানভীর তালুকদার জানান, প্রচলিত বোতলজাত পানির তুলনায় এই প্ল্যান্টের পানি ব্যবহারে খরচ অনেক কম হবে। তাঁর দাবি, অটোমেশন মেশিনটি চালুর ফলে বোতলজাত পানির তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম খরচে নিরাপদ ও পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ইঞ্জিনিয়ার তানভীর তালুকদার বলেন, বোতলজাত পানি ব্যবহারের পর প্লাস্টিকের বোতল যত্রতত্র ফেলে দেওয়ার কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু এই মেশিনের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারযোগ্য পাত্রে পানি সংগ্রহ করা যাবে। এতে কম খরচে উন্নত সেবা পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক বর্জ্যের চাপও কমবে।
তিনি আরও জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত হওয়ায় প্ল্যান্টটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। মেশিনটিতে রয়েছে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ। ফলে পানি সরবরাহ ও ব্যবহার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাবে।
স্থানীয়দের জন্য প্ল্যান্টটির অবস্থানও সুবিধাজনক। এটি দৌলতেরকান্দি তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে এবং দৌলতেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থাপন করায় নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ সহজেই পানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পানি সংগ্রহের জন্য ব্যবহারকারীদের একটি স্মার্ট আধুনিক কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মেশিনে পাঞ্চ করে পানি সংগ্রহ করা যাবে। এতে নগদ অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন কমবে এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
ইঞ্জিনিয়ার তানভীর তালুকদারের দাবি, এটি বাংলাদেশে এ ধরনের একটি প্রথম পাইলট প্রকল্প। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ, স্মার্ট কার্ড, অটোমেশন প্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরা সমন্বিত করে নিরাপদ পানি সরবরাহের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্ল্যান্ট স্থাপন ও কার্যক্রমে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন দৌলতেরকান্দি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান আহাম্মদ হোসেন তালুকদারসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (ঈঈঊঈঈ) এর ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার তানভীর তালুকদার।
প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন চীনের মি. লিও এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন মি. ওয়াং বিন।
স্থানীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেন সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন তালুকদার সাকু।
এলাকাবাসী বলছেন, নিরাপদ পানি পাওয়ার পাশাপাশি কম খরচে পানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই প্ল্যান্টটি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উপকারে আসবে। বিশেষ করে মসজিদ ও বিদ্যালয়ের পাশে স্থাপন করায় মুসল্লি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।
উদ্যোক্তাদের আশা, পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সৌরবিদ্যুৎ ও আধুনিক অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
