মঙ্গলবার ● ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
কুবিতে স্বাস্থ্যসেবায় মাথাপিছু বরাদ্দ মাসে ৮ টাকা ৫৫ পয়সা
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ এএম আপডেট: ০৫.১০.২০২৬ ১:৫৮ এএম |


 কুবিতে স্বাস্থ্যসেবায় মাথাপিছু বরাদ্দ  মাসে ৮ টাকা ৫৫ পয়সাকুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা বিবেচনায় এ বরাদ্দ মাথাপিছু বছরে ১০২ টাকা ৫৪ পয়সা, আর মাসে ৮ টাকা ৫৫ পয়সা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুবিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৬ হাজার ২১৩ জন। এছাড়া ২৮৬ জন শিক্ষক এবং ৩২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৬ হাজার ৮২৭ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মোট বাজেট ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৮৪ শতাংশ (০.০৮৪%)।
মেডিকেল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ টাকা। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৭ লাখ টাকা করা হলেও চলতি অর্থবছরেও বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
মেডিকেল সেন্টারের তথ্য মতে, স্বাস্থ্য সেবা খাতের মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মেডিকেলের যন্ত্রপাতি কেনা ও মেরামত বাবদ ব্যয় হয়। অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হয় ১২ প্রকার ওষুধ কেনা বাবদ। এ ছাড়া প্রতি মাসে ইন্সট্রুমেন্টসহ ওষুধ কেনা বাবদ খরচ করা হয় ৬০ হাজার টাকা। যেখানে আবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৫ শতাংশ মেডিকেল ভ্যাট।
অন্যদিকে মেডিকেল সেন্টারে রয়েছে চিকিৎসকেরও অপ্রতুলতা। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক রয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে একজন শিক্ষাছুটিতে থাকায় বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন চারজন চিকিৎসক। এ ছাড়া রয়েছেন দুইজন খণ্ডকালীন ডাক্তার, একজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও একজন নার্স এবং তিনজন সাপোর্টিভ স্টাফ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ ও চিকিৎসক সংকটসহ এর সেবা নিয়ে রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত রোগী দেখার চাপ থাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাছাড়া মেডিকেল সেন্টার থেকে মাত্র ১২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করায় অধিকাংশ ওষুধই বাইরের ফার্মেসী থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ফলে মেডিকেল সেন্টারের সেবার মান বাড়ানোর জন্য আরও বেশি ওষুধ সরবরাহ, ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ একটি মিনি প্যাথোলজি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে অবহেলিত সেক্টর হচ্ছে মেডিকেল সেক্টর। শিক্ষার্থীরা এখানে ন্যূনতম সেবা পায় না। ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স যথেষ্ট নয়। আমি দাঁতের ব্যথার জন্য মেডিকেল সেন্টারে গিয়েছিলাম। আমাকে শুধু গ্যাসের ট্যাবলেট আর এইস দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল সেন্টারে গেলে এই দুটি ছাড়া আর কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।’
ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে নাপা সেন্টার বলা হয়। বর্তমানে কিছু ওষুধ আসছে। কিন্তু এতে পরিপূর্ণ সেবা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষার্থীর জ্বর হলে তাকে ব্লাড টেস্টের জন্য শহরে যেতে হয়। আমাদের ছোটোখাটো সমস্যার জন্য যে সেবাটা প্রয়োজন, সেটা যথেষ্ট পরিমাণে নেই। পরিপূর্ণ একটি সেবাদান কেন্দ্র করার জন্য একটি মিনি প্যাথোলজি, একজন ফার্মাসিস্ট এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রধান ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের স্টেকহোল্ডারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, ওষুধের চাহিদাও বাড়ছে। সে তুলনায় ওষুধের জোগান কম আছে। প্রতিবছর ইন্সট্রুমেন্ট কিনতে মোট বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ খরচ হয়। প্রতি মাসে যে পরিমাণ ওষুধ কেনা হয়, সেই টাকার ১৫ শতাংশ মেডিকেল ট্যাক্স দিতে হয়।’
মেডিকেল সেন্টারে আরও লোকবল প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বিপরীতে আমাদের জনবলও কম আছে। উপাচার্য স্যারকে জানিয়েছি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের কিছু লোকবল দরকার। মেডিকেল সেন্টারে একজন আবাসিক চিকিৎসক প্রয়োজন, বিশেষ করে শুক্রবার-শনিবার বন্ধের দিন প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারবে। আমাদের মেডিকেল সেন্টারে একজন ফার্মাসিস্ট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মেডিকেল সেন্টার সার্বক্ষণিক পরিষ্কারের জন্য একজন ক্লিনারও দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যদি মিনি প্যাথলজি থাকত, এখন যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা যেত। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমাদের মিনি অপারেশন থিয়েটার চালু হবে। সেখানে আমরা প্রাথমিক ট্রিটমেন্টগুলো দিতে পারব। সবকিছু প্রস্তুত আছে, রুমটি বুঝে পেলেই আমরা কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা আরও বাজেট চাই। সেক্ষেত্রে বেশি বাজেট পেলে চিকিৎসা খাতেও বাজেট বাড়াতে পারব। এ ছাড়া বর্তমানে ওষুধের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই পরিমাণ ওষুধ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।’














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২