
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও তিতাসের নতুন বাটেরার চর গ্রামবাসীর মধ্যে চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর হত্যার জেরে তিতাসের নতুন বাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দা আসামি জাকির হোসেনের বসত ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। (৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার রাতে তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরারর চর গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আসামি জাকির হোসেনের চৌচালা একটি টিনের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ইস্টেলের আলমারি, একটি শুকেজ, দুটি ফ্যান ও একটি ড্রাম।এছাড়া আসবাবপত্র বা অন্যান্য কোনো মালামাল দেখা যায়নি। এসময় স্থানীয়দের সাথে কথা হলে, তারা অভিযোগ করে বলেন ২৬ জুলাই মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরার চর গ্রামবাসীর মধ্যে চর দখল নিয়ে টেটা যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় চরবিনোদপুর গ্রামের কুহিনূর আক্তার (৩৫) টেটা বিদ্ধ হয়ে ঘটনা স্থলেই মারা যায়। তখন তিতাসের নতুন বাটেরার চর গ্রামবাসী পিছু হটলে, চরবিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দারা এসে তাদের বাড়ি ঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে মুল্যমান মালামাল নিয়ে চরবিনোদপুর গ্রামের লোকজন নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন।
তখন থেকে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে নতুন বাটেরারচর গ্রাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় নিহত কুহিনূর আক্তারের স্বামী কাবিল মিয়া ২৭ জুলাই ৪১ জনকে আসামি করে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ দুই মাস আমিরা পলাতক থেকে ৫ অক্টোবর ৩৬ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত ৪ জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকী ৩২ জনকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এদের মধ্যে ভুক্তভোগী জাকির হোসেনও রয়েছেন।
আসামি জাকির হোসেনের মা শাহিদা বেগম বলেন, মারামারির পর থেকে আমাদের গ্রামে কোনো পুরুষ লোক থাকতে পারেনা। আমার স্বামী নাই, কোনো রকম আমরা মহিলারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাই। রবিবারে আমার ছেলে জাকির অন্যান্য আসামিদের সাথে হাজির হইতে গেলে জেলে দিয়ে দেয়। গতকাল(মঙ্গলবার) রাতে আমি একা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আনুমানিক ১০ টার সময় বিনোদপুর গ্রামের ৪০/৫০ জন লোক এসে আমার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। কোনো রকম ঘর থেকে বের হয়ে দৌড়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করি।এই কথা বলে ভুক্তভোগী শাহিদা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বিনোদপুর গ্রামের আবুল হোসেন বলেন,তিতাসের নতুন বাটেরারচর গ্রামবাসী চর দখলকে কেন্দ্র করে ২৬ জুলাই আমাদের গ্রামের কুহিনূর আক্তারকে হত্যা করেছে। এঘটনায় নিহতের স্বামী কাবিল মিয়া হত্যা মামলা করেছেন। তারা এতোদিন পলাতক ছিলেন। ৫ অক্টোবর হাজির হতে আদালতে গেলে তাদের ৩২ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের নামে নতুন করে মামলা দিতে তারা নিজেরাই আগুন লাগিয়ে ঘরটি পুড়েছে।
তিতাস থানা ওসি মমিরুল হক বলেন, অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। এবং আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
