‘কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকে কোনো দুর্নীতি করে থাকলে আমি নিজেই আমার ফাঁসি চাই’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংকটির সভাপতি এডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত। তিনি বলেছেন, আমাকে সরিয়ে দিয়ে বিএনপির কেউ এখানে আসতে চাচ্ছে।
বুধবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা সমবায় ব্যাংকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত কর্মকর্তা যে শাস্তি দেবেন, তা তিনি মাথা পেতে নেবো উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যদি দুর্নীতি করে থাকি, তা যদি প্রমাণ হয়- তবে আমিই আমার ফাঁসি চাই। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে মেনে নেব। প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দিতেও বাধ্য থাকব।
এডভোকেট কাজী নাজমুস সাদাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিপন্থী আইনজীবী হিসেবে চৌদ্দগ্রামে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় আইনি লড়াই করেছেন তিনি। গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘গায়েবি মামলার’ বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই করেছেন। অথচ এখন বিএনপিরই একটি অংশ তাকে ‘স্বৈরাচার’ ও আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে তার বৈধ কমিটি বাতিলের চেষ্টা করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির একটি অংশের ২৬ জনের একটি চক্র কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক দখলের চেষ্টা করছে। যদিও সমবায় ব্যাংকটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি সমবায় সদস্যদের প্রতিষ্ঠান। অথচ সমিতির সদস্য না হয়েও একটি পক্ষ ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যা সমবায় আইনের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, তাকে সভাপতি পদ থেকে সরাতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির একজন নেতা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। তবে তিনি এই ব্যাংকের কোনো সদস্য নন। এরপরও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার বৈধ কমিটি বাতিলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
কাজী নাজমুস সাদাত বলেন, এমপি মনিরুল হক চৌধুরী এ বিষয়ে একটি কমিটি করেছিলেন। সেই তদন্তের বিষয়গুলোও সামনে এনে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
ব্যাংকের মার্কেট উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কেট নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় ১২ কোটি টাকা রয়েছে। অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দোকানের স্পেস বাড়ানোর মাধ্যমে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি চক্রের ওই অর্থের প্রতি নজর পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি চাই, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। আমি কোনো অন্যায় করে থাকলে তদন্তে তা প্রমাণিত হবে। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তাহলে যারা এসব অভিযোগ করছেন তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সদস্য জসিম উদ্দিন, মনির ইসলাম, মোহাম্মদ শহিমিয়া, মো. হুমায়ুন কবির এবং সাবেক সমিতির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজুল হকসহ অনেকে।
