
কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, ব্যানার-ফেস্টুনে অগ্নিসংযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ৫১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মামলার বাদী ও বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলায় নামীয় আসামিরা কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী।
মামলায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য মানিক মিয়াকে ১ নম্বর, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল মজুমদারকে ২ নম্বর, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদকে ৫ নম্বর, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলমকে ৬ নম্বর, হাবিবুর রহমানকে ৭ নম্বর এবং মহিন উদ্দিনকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন-সৌরভ হোসেন রেপ, মো. কামাল হোসেন, সেরাজু হক প্রকাশ চারু, মো. সিদ্দিক মিয়া, মো. শরীফ, মো. শাহাজান, মো. সোহেল, মো. আহসান উল্যাহ, মো. আবুল কালাম, শম্ভু রায়, মো. বাবুল মিয়া, সদ্দাম হোসেন টিপু, মো. খোরশেদ আলম, মো. মাসুদ, মো. আল আমিন প্রকাশ অয়ন, মো. সোহাগ, মো. আরিফ মজুমদার, মো. এবায়েদ উল্যাহ, মো. সোলোমান, মো. কবির হোসেন, মো. রাজু আহাম্মেদ, হারুনুর রশিদ, মো. রবিউল হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. সোহাগ, মো. সোহাগ তালুকদার, আসাদুজ্জামান প্রকাশ রাসেল, মো. খালেদ মজুমদার, মো. মোশারফ হোসেন, ওসমান গনি রিংকু, রিয়াজ, সদ্দাম, জাকির হোসেন, মো. আনোয়ার উল্যাহ, মাহবুব আলম, মো. আসালম মজুমদার, মো. আলী আশ্রাফ, মো. আক্তারুজ্জামান রকেট, মো. রফিকুল ইসলাম প্রকাশ সুয়া মেম্বার, মো. শামীম, মো. শিব্বির আহাম্মদ, মো. আরিফ বিল্লাহ, মো. শান্ত হোসেন সোহাগ ও মো. শহীদুল ইসলাম।
‘ভাঙচুরে ছিলাম না, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি’:
মামলার প্রধান আসামি মানিক মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অফিসটি কে বা কারা ভেঙেছে জানি না। আমি ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে ছিলাম না। তারপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বিএনপির অভিযোগ, ‘মিছিল থেকে কার্যালয়ে হামলা’:
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, গত বুধবার কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্যের সমর্থকদের উদ্যোগে বাগমারা বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিল থেকে বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ৫১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে তাদের কেউ কেউ জড়িত নন এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
