কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানের পঞ্চম ধাপে অভিযানে কুখ্যাত কিশোর গ্যাংলিডার ৪ জনসহ মোট ৩ শ’ ৭০ জন আটক করেছে পুলিশ। জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এ অভিযান চলে শনিবার ভোর পর্যন্ত। শুক্রবার ৫ম দফায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটককৃত ৩৭০ জনের মাঝে যাচাই বাছাই শেষে ৯১জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বাকিরা মুচলেকায় মুক্ত হয়ে অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, পাঁচ ধাপের অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আটক ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬২৬ জনকে অপরাধ সংশ্লিষ্টতায় আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এতে শহর ও উপজেলা শহরগুলোতে কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম কমে আসছে।
তিনি জানান, পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে জেলার শীর্ষ কিশোর গ্যাং লিডাররা আত্মগোপনে চলে যায়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর দুটি কিশোর গ্যাং—‘টিম জঅড’ এবং ‘ঈৎরসব ঝবঃঁঢ়’-এর ম‚ল নেতৃত্বদানকারী ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।গ্রেফতারকৃতরা হলো কুখ্যাত গ্যাং জঅড’ এর ম‚ল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ইমরান হোসেন রতন (১৯)। তার বিরুদ্ধে খুনসহ ৯টি গুরুতর মামলা রয়েছে। আটক গ্যাং লিডার সাইফুল ইসলাম (২০)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ভয়ঙ্কর গ্যাং ‘ঈৎরসব ঝবঃঁঢ়’ এর শীর্ষ নেতা মোঃ সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) কে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প‚র্বের ১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আটক রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’। তার বিরুদ্ধেও ১টি অপরাধম‚লক মামলা রয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, কাউকে বাসা থেকে বা রেস্তোরাঁয় বসে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়নি। সন্ধ্যার পর পড়াশোনার সময় যাদের রাস্তায় বা বাড়ির বাইরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে, তাদেরই আটক করা হয়েছে।
১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাÐে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর এ অভিযান জোরদার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী তুহিনসহ দুই কিশোর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিম‚লক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরেক আসামি সিয়ামকে তথ্য গোপনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবন, অবৈধ মোটরসাইকেলের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কর্মকাÐ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
