
জুলাইঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল আবেদন জমা দেওয়া হয় বলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত মনে করায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিলটি করা হয়েছে। আপিলে ১১টি গ্রাউন্ড নেওয়া হয়েছে।”
ইনুর খালাস পাওয়া কয়েকটি অভিযোগেও সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তামীম বলেন, “শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্স অনুযায়ী অপরাধের ভয়াবহতা, গভীরতা এবং ‘স্কেল অব দ্য অ্যাটাক’ বিবেচনা করতে হয়।
“কত মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে।”
প্রসিকিউশন বলছে, ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া পর্যবেক্ষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথন, আন্দোলন দমনের বিষয়ে পরামর্শ, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় তুলে ধরেছে।
এসব কর্মকাণ্ডকে ‘সত্য’ বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পরও ইনুকে ১০ বছরের সাজা দেওয়ার বিষয়টি ‘ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ বলে মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
তামীম বলেন, “ইনুর মত বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার আদেশ একজন সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী, আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের ভিত্তিতে আপিলে সেই বিষয়টিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”
তার ভাষ্য, একজন সামরিক কমান্ডার অধস্তনদের আদেশ দিলে তারা তা মানতে পারেন বা নাও পারেন। কিন্তু একজন বেসামরিক নেতা আদেশের পাশাপাশি বক্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।
আপিলটি গ্রহণ করে ইনুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর তামীম।
