মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনতে ছেলেকে নিজের কিডনী দিয়েছিলেন গর্ভধারিনী মা। সেই কিডনী প্রতিস্থাপনের পর বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছিলেন ৪৬ বছর বয়সী ছেলে আনোয়ার হোসেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রোববার গভীর রাতে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিডনী জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন আলকরা ইউনিয়নের পশ্চিম ডেকরা গ্রামের মরহুম শফিকুর রহমানের বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ১৩ আগষ্ট আনোয়ার হোসেনের কিডনী স্থাপন করেন। দেড মাসের মাথায় আবার সমস্যা দেখা দিলে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আনোয়ার হোসেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার গভীর রাতে মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুকালে তিনি গর্ভধারিনী মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ভাইসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। তার মৃত্যুতে পরিবার আত্মীয় স্বজন ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
কিডনী সমস্যায় মারা যাওয়া আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই মোঃ রুবেল কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ভাইকে বাঁচতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। প্রায় বিশ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আমার মা নিজে বেঁচে থাকার কথা চিন্তা না করে ছেলেকে একটি কিডনী দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ প্রযন্ত বাঁচাতে পারলাম না ভাইকে। আমার মায়ের একটাই দুঃখ, অন্তত একটা বছর আমার মায়ের কিডনী নিয়ে বাঁচত।
আনোয়ার হোসেনের প্রতিবেশি সবুজ ও সাগর বলেন, আনোয়ার কখনো কারো সাথে সামান্য ঝগড়া করে নাই। অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ ছিলো। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
