রণবীর ঘোষ কিংকর।
দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কুমিল্লায় ব্যাপক সংখ্যাক পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওই শারদীয় উৎসব। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের হিসাব মতে জেলার ৮৬০টি পূজা মন্ডপে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেবী অর্চনা। পূজা ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শারদীয় দুর্গা পূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক উপস্থিত সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে এমন আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন- দুর্গা পূজা অনুষ্ঠানকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। পূজা পূর্ববর্তী, পূজা চলাকালিন ও পূজা পরবর্তী সময়ে পৃথক ভাবে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক ১০ অক্টোবর থেকে আমরা প্রতিটি পূজা মন্ডপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে।
এবছর পুলিশের পাশাপাশি, এসআরবি, বিজিবি, আনসার, এনএসআই, ডিজিএফআই, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গ্রাম পুলিশ সহ সাদা পোশাকে মাঠে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সভায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান- পূজা চলাকালিন সময়ে আইনÑশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মহানগরীর পূজা মন্ডপগুলোতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর অধীনে থাকা ট্রাফিক সহায়তাকারী টিম (ট্যাগ) সদস্য নিয়োগ করা হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন পাশে থাকবে।
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুউক)-এর চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপি সভাপতি উদবাতুল বারী আবু জানান- মহানগরীর পূজা মন্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন এর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল হক, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু রায়হান, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.বি.এম সারোয়ার রাব্বি, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল হক বিভিএমএস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্তকর্তা মোহাম্মদ আবেদ আলী, কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সরকার, কুমিল্লা মহানগরী পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সভাপতি শ্যামল কৃষ্ণ সাহা, কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সভাপতি দুলাল দেবনাথ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বক্সী প্রমুখ।
