নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় বাণিজ্য মেলার নামে জুয়ার আয়োজনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগরসহ আলেম-ওলামা, তৌহিদী জনতা ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিনিধিরা।
জুয়ার মেলার বন্ধের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপর ৯ অক্টোবর শুক্রবার কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে মেলাস্থলের উদ্দেশে লংমার্চ করা হবে।
হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি মুফতি শামছুল ইসলাম জিলানীর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, গত বছর কুমিল্লা শহরে আয়োজিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে লটারি ও জুয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় দুই মাস ধরে চলা ওই মেলা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে একপর্যায়ে মেলা বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
চলতি বছর ১৫ আগস্ট মেলা শুরুর আগে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে মেলা কর্তৃপক্ষের আলোচনা হয়। আয়োজকদের দাবি, ওই আলোচনায় কর্তৃপক্ষ মেলায় কোনো ধরনের জুয়ার আয়োজন না করা, মেলার বাইরে টিকিট বিক্রি না করা, প্রতিদিন কুপন ড্র বা লটারি না করা এবং কনসার্ট ও অশ্লীলতা না করার বিষয়ে প্রতিশ্রæতি দেয়।
আলেমদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মেলা শুরুর প্রায় এক মাস পর ওই প্রতিশ্রæতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিভিন্ন কৌশলে পুনরায় জুয়ার অনুরূপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি বন্ধে একাধিকবার মেলা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া এসব কার্যক্রমে বাধা দিতে গিয়ে স্থানীয় আলেম ও সাধারণ মানুষ হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের হুমকির সঙ্গে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা মেলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
আয়োজকদের দাবি, বাণিজ্য মেলার অনুমতির আড়ালে জুয়া বা জুয়ার অনুরূপ কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রশাসনের উচিত তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জুয়া, দৈনিক কুপন ড্র ও কনসার্ট বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
ঘোষিত কর্মসূচি-
৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার: জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান।
৯ অক্টোবর, শুক্রবার: কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে মেলাস্থলের অভিমুখে লংমার্চ।
কর্মসূচিতে আলেম-ওলামা, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আয়োজকরা।
তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাণিজ্য মেলার নামে কথিত জুয়ার আয়োজনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
