কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাঁশঝাড়ের মালিকানা ও বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে শফিকুল ইসলাম নামে বাঁশ-বেতের এক কারিগরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী নারগিস আক্তার। স্থানীয়রা শফিকুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন (এনু) মেম্বারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মূলঅভিযুক্ত লিমনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) ওই গ্রামের মৃত মোয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার জানায়, শফিকুল বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে গেলে একই বাড়ির মৃত জয়নাল আবেদীন (এনু) মেম্বারের ছেলে এনামুল হক লিমন (৪৭) ও তার ভাতিজা এমদাদুল হক নিশাদ বাঁধা দেন এবং তাঁরা বাঁশঝাড়টি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে লিমন, নিশাদসহ আর কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শফিকুলের ওপর হামলা চালায়। পরে সফিকুলকে হাতুড়ি ও দা দিয়ে পেটানো এবং দা দিয়ে কোপাতে থাকে। এর একপর্যায়ে লিমন উত্তেজিত হয়ে ছুরি দিয়ে শফিকুলের পেটে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শফিকুলের চিৎকারে শুনে স্ত্রী নারগিস আক্তার ছুটে গেলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা শফিকুল ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযান চালিয়ে লিমনকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এ বিষয়ে এসআই সাগর বড়ুয়া জানান, হত্যাকান্ডের পর বাহির দিকে দরজা তালা দিয়ে নিজ ঘরেই অবস্থান করছিল লিমন। নিহতের স্ত্রী নারগিস আক্তার বলেন, ‘চোখের সামনে আমার স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করলো। আমার তিনটি ছোট শিশু আজ এতিম হয়ে গেল। আমি এ হত্যাকাÐের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাÐ ঘটেছে। নিহতের গলা ও পেটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।সফিকুলের স্বজনরা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
