নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ভূমিহীনতার ‘কারণ’ দেখিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়োগপত্র আটকে যাওয়া কুমিল্লার লালমাইয়ের সেই তাসলিমা অবশেষে চাকরি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ সংক্রান্তে দৈনিক কুমিল্লা কাগজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘শুধু ভ‚মি না থাকায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাননি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী লালমাইয়ের তাসলিমা’ শিরোনামের একটি ফটোকার্ড নজরে আসে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর।
বিষয়টি জানার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেন এবং দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানা যায়, ওই চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন।
নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর তাসলিমা আক্তার একজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা নগরীর এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর কার্যালয়ে যান এবং তাকে কৃতজ্ঞতা জানান।
উচ্ছ¡সিত তাসলিমা শুকরিয়া আদায় করে বলেন, এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর সহায়তায় সকল জটিলতার সমাধান শেষে আমি নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এমপি মনিরুল হক চৌধুরী ও আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীকে ধন্যবাদ।
চাকরিপ্রার্থী তাসলিমা বলেন, কোনো এক অজানা কারণে চাকরির নিয়োগপত্রটি আটকা পড়ে। হয়তো রিপোর্ট বা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ভুল হতে পারে। একটি কাগজের সমস্যার কারণেই ম‚লত জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
এ বিষয়ে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, নরমালিই তাসলিমা নামে ওই প্রার্থীর চাকরি হয়েছে। চাকরির জন্য সে তালিকাভুক্ত ছিলেন। কিন্তু নিয়োগে তার নাম দেখতে না পেয়ে আমার কাছে আসেন। ওইদিন আমি পরিকল্পনা কমিশনে ছিলাম। আমার মনে হলো, মেয়েটি আমাকে চেনে। চেনাটাই স্বাভাবিক, কারণ লালমাইয়ে ঘরে ঘরে আমি পরিচিত।
তিনি বলেন, আমি তার অভিযোগটি সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ডিজিকে মেসেজ পাঠাই। তিনি আমাকে জানান, আজকেই চিঠি ইস্যু হবে। আজকে যখন দেখলাম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক মেয়ের চাকরি হয়নি, পরিবার ভ‚মিহীন এ কারণে; তার বাবার কান্নাকাটি আমাকে একটু নাড়া দিয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই নিউজটি ডিজি, ডিসি ও ডিপিইওর কাছে পাঠাই। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার আমাকে ডিজি কল করে জানান, স্যার, ওই প্রার্থীর চাকরি হয়ে গেছে।
মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, পরবর্তীতে ওই চাকরিপ্রার্থীকে কল দিয়ে জানতে চেয়েছি, কে বলেছে চাকরি হবে না। মেয়েটি এ কথা বলতে পারেনি। তবে আমি বলব, যিনি বলেছেন মেয়েটি চাকরি পাবে না, তার চাকরি থাকবে না।
এর আগে ভ‚মি জটিলতার কারণে তাসলিমার চাকরি হচ্ছে না এমন বিষয় সামনে আসার পর তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরিবার স‚ত্রে জানা যায়, তাসলিমার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপই ছিল সাফল্যে ভরা। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ভালো ফলাফল করেছেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বাবার অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জন করা অর্থেই চলেছে সংসার ও মেয়ের পড়াশোনার খরচ।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের মধ্যেও তাসলিমা কখনো পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যাননি। সরকারি চাকরির প্রস্তুতিও নিয়েছেন নিয়মিত। অবশেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক দুই ধাপেই সফল হওয়ার পর পরিবারে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নিয়োগের চ‚ড়ান্ত প্রক্রিয়ায় এসে ভ‚মিহীন পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
