নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লার লালমাইয়ে দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ভাংচুরের পর কার্যালয়ের ভেতরের চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রি মহাসড়কে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ অবরোধে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ।
বুধবার বিকেলে (৩০ সেপ্টেম্বর) লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে মহাসড়ক অবরোধ করেন দলের নেতাকর্মীরা।
ত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে লালমাই উপজেলা বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর পাশ্ববর্তী উপজেলা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই বাজারের ‘আলাউদ্দিনের খাবার হোটেলে’ হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। ওই বিএনপি নেতার ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা বাগমারা বাজারে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালান। এতে চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সড়কে এনে অগ্নিসংযোগ করেন।
কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগকারী বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি কুমিল্লা-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী লোকজন বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের ওপরে হামলা চালিয়ে মারধর করেছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাকির হোসেনের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
এবিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, আমি পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। যে বা যারা আমার দলের নেতার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জানান, তিনি জাকির হোসেনকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং ঘটনাটি সম্পর্কে কেবল জেনেছেন। এলাকায় গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেবেন বলেও জানান তিনি।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
