কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী। ছয়টি মৌজার মধ্যবর্তী স্থানে থাকা কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে গ্রামের এক প্রান্তে নেওয়া হলে সাধারণ ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে বলে দাবি করেছেন তারা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ভোটকেন্দ্র রাখার দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ছয়টি মৌজার ভোটারদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মৌজাগুলো হলো তৈলকুপি, শালুকমুড়া, ভুবনঘর, ইছারপাড়, কৃষ্ণপুর ও রামনগর। ছয়টি মৌজার মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় কেন্দ্রটি সবার জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য। এ কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার ভোটার রয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়ে আসছে। তবে ২০২৪ সালের স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রটি আবুল হাসেম আব্বাসীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ওই বিদ্যালয়টি ছয়টি মৌজার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে হওয়ায় অনেক ভোটারের জন্য সেখানে যাতায়াত কষ্টকর। পরে, কেন্দ্রটি পুনরায় ভুবনঘর তরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আনার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বর্তমানে আবারও কেন্দ্রটি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় নারী, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণির ভোটার সহজেই সেখানে ভোট দিতে পারেন। বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে এবং মোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। ভোটকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সাতটি কক্ষের চেয়ে সেখানে বেশি কক্ষ রয়েছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর থাকায় নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি সুবিধাজনক বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে কৃষ্ণপুর ও ভুবনঘরের কিছু ব্যক্তি কেন্দ্রটি পরিবর্তনের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। এতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার সুবিধা হলেও ছয়টি মৌজার সাধারণ ভোটাররা ভোগান্তিতে পড়বেন বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে কি না, তা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে স্থানীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়ে আসছে এবং অতীতে এ কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রটি পরিবর্তনের পরিবর্তে আগের অবস্থানেই রেখে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মনিরুল আলম, সেলিম, ওবায়েদ, কাশেম, হিরণ, তারু মিয়া, মোস্তফা, স্বপন, মিন্টু মাওলানা, আক্তার হোসেন, কাজল, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. তারু মিয়া ও গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
সমাবেশ থেকে ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখা, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
