মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ এএম |

সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর দখল-দূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কিছু কিছু নদীর পানি এখন পুরোপুরি বিষাক্ত এবং ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ট্যানারির বর্জ্য, অপরিকল্পিত শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্যের ভয়াবহ আগ্রাসনে রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে। নদ-নদীর দখল ও দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় নদীগুলোর পানিতে অতিমাত্রায় ভারী ধাতু, বিপজ্জনক জীবাণু এবং চরম মাত্রায় জৈবদূষণ শনাক্ত করা হয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্য ও জলজ পরিবেশের জন্য এক মহাবিপদের ঘণ্টা বাজিয়েছে। এমন সমস্যা মাথায় নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হলো বিশ্ব নদী দিবস।
দখল ও দূষণের আগ্রাসনে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ঢাকাকে ঘিরে রাখা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা নদীসহ অসংখ্য খাল ও জলাশয়। একসময়ের খরস্রোতা এসব নদী ও নদীতীরবর্তী সংযোগকারী ১৭টি খালের বেশির ভাগই মৃতপ্রায়। আবার কিছু সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতাকালে ঢাকা জেলায় নদীর সংখ্যা ছিল ১৫টি। এর মধ্যে কিছু নদীর অস্তিত্ব এখন আর নেই। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় বিগত অর্ধশত বছরে ঢাকা ও এর আশপাশের পাঁচটি নদী এবং প্রায় ১০ হাজার ২৪৫ হেক্টর খাল, জলাশয় ও নিম্নভূমি বেদখল হয়েছে। রাজধানীর মূল ৪৩টি খালের মধ্যে ১৭টির কোনো অস্তিত্বই নেই। ২৬টি খাল কেবল কাগজ-কলমে টিকে থাকলেও বাস্তবে বহু খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। নদীগুলোর এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি।
নদী কমিশনের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ হাজার শিল্পকারখানার বর্জ্য পরিশোধনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য ঢাকার খাল ও নদীগুলোতে পড়ে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে নদীদূষণের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল আ্যন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান জানান, ঢাকার ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা রয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ এলাকায়। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ায় অর্থনীতিতে বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এমন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে ঢাকা ও এর আশপাশের নদীব্যবস্থা রক্ষায় এখন খণ্ডাংশভিত্তিক উদ্যোগের বদলে একটি ‘সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান’ বা রূপরেখার প্রস্তাব দিয়েছেন নদী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা।
দেশের শিল্পবর্জ্য ছাড়াও নদীদূষণের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে নিঃসৃত জ্বালানি তেল ও দূষিত তরল বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ ছাড়া ট্যানারির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যাতে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম থাকে। এটা মানুষের শরীরে ক্যানসার সৃষ্টি করে থাকে বলে জানান গবেষকরা। বিশেষ করে ক্রোমিয়ামের কারণে জলজ-জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। মাছ নদীর পানিদূষণের বড় শিকার হচ্ছে। মাছের মাধ্যমে ভারী ধাতু মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে; যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলাদেশের বহু মানুষ প্রতিবছর নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত হন, যা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক ও মানসিক পীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নদীগুলোকে সচল রাখতে এবং দখল রোধে সরকারকে সমন্বিত টেকসই দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্পবর্জ্যের উৎসমুখ নিয়ন্ত্রণ, খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণসহ নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নদীর পাড় ও তীরের বিরাট অংশজুড়ে যে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, অর্থাৎ নদী দখলকারী ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সরকারকে।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু আজ সেই নদীগুলো দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীগুলো যখন দখল হয় বা পলি জমে শুকিয়ে যায়, তখন বাস্তুতন্ত্রের সৌন্দর্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত করে। তাই নদী রক্ষায় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী দখলকারী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নদী-খালের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২