
রাজধানীতে বিভিন্ন সময় উন্নয়নকাজের খোঁড়াখুঁড়ি এবং গাছপালা কাটার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। রাজধানীর পার্ক-খেলার মাঠগুলো মূলত ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আওতায় পরিচালিত হয়। একাধিক সংস্থা এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকলেও সংকট দেখা দিলে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো দায় এড়িয়ে একে অন্যের ওপর দোষ চাপায়। রক্ষণাবেক্ষণে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ঢাকার পার্কগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। উদ্যানের উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঢাকায় যেখানে সবুজ এলাকা অত্যন্ত কম, সেখানে একটি পার্কের উন্নয়ন নকশা করতেই ৮ থেকে ১০ বছর লেগে যায়। তা ছাড়া পার্কে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়। এতেই বোঝা যায়, নগর ব্যবস্থাপনায় এসব উন্মুক্ত স্থানকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতায় রয়েছে ২৩টি পার্ক, ৪টি শিশুপার্ক ও ৮টি খেলার মাঠ। অন্যদিকে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে রয়েছে ২০টি পার্ক ও ১৯টি মাঠ। এসব পার্কের কয়েকটিতে উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় গাছ কাটা, কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ ও দোকান ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্কগুলোর সবুজ ও উন্মুক্ত জায়গা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর আকারের তুলনায় পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকায় ঢাকার সবুজ এলাকা সংকটাপন্ন। যেখানে আয়তনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন, সেখানে উত্তরে সবুজ এলাকা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ সিটিতে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। আগে পার্কে পশুপাখির বিচরণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বেশি দেখা গেলেও তা ক্রমে কমে যাচ্ছে। উদ্যান ধ্বংস না করার আইন থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্কের উন্নয়ন শুধু নতুন স্থাপনা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। গাছের পরিচর্যা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, হাঁটার পথ এবং শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে পার্ক সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হলেও কাজ শেষে তা আগের চেয়ে উন্নত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তা না হলে নগরবাসীর জন্য থাকা অল্প কিছু সবুজ ও উন্মুক্ত স্থানও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সবুজ ও উন্মুক্ত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় কিছু পার্কে মাদক সেবনসহ নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে।
পার্কসংশ্লিষ্ট স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের কারণে তৈরি হওয়া আড়াল ও নির্জন স্থানে মাদক সেবন ও বেচাকেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সড়কবাতি ও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অসাধু চক্রের আনাগোনা বেড়েছে।
এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি জরুরি। এ ছাড়া সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
আশা করি, সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে নগরীর উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত করবে এবং একটি পরিবেশবান্ধব রাজধানী গড়ে তুলবে।
