মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ এএম |

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিন
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই দেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের অবস্থা নাজুক। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা ঠিকমতো চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বাজারে অতিরিক্ত প্রবেশ করবে। ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর দুই ধরনের চাপ তৈরি হবে। বৈশ্বিক এবং দেশের অর্থনীতির এই নাজুক অবস্থায় অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে জনগণের কাঁধে নতুন করে করের বোঝা চাপানো হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারে এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইরান যুদ্ধের আগে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের যে দাম ছিল, এখন সেই দামের চেয়ে বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এর পাশাপাশি বেড়েছে জ্বালানি তেল পরিবহন খরচ। পাশাপাশি অন্যান্য আমদানি খরচও বেড়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরদিন থেকেই দূরত্বভেদে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এভাবেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন খাতে।
শুধু ব্যবসায়ীরা নন, বিভিন্ন বাজারের আড়তদার, খুচরা ব্যবসায়ী, পরিবহনচালক, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সবার একই অভিযোগ–সব পণ্যের বাজার এমনিতেই চড়া। তার ওপর নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। এতে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি হবে। যে যার মতো দাম আদায় করবে। বাড়তি দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়বে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ভাড়া যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে কৃষির উৎপাদন ব্যয়। সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হবে। এতে হিমশিম খেতে হবে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষকে। নিম্ন আয় ও শ্রমজীবী মানুষের মাসিক বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে বারবার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে যাবে। এমনিতেই দারিদ্র্য বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই সরকারকে ব্যয় কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। এর আগেও আরও দুবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ভোক্তাকে অভিঘাত থেকে রক্ষার নামে এভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। এতে সংকট আরও বেড়েছে। এ সরকারও ভর্তুকি কমাতে এ কাজ করছে। এতে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। সরকারের সৃষ্ট সংকটের শিকার হচ্ছে জ্বালানি খাত।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় ধরনের মূল্যস্ফীতি বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ বাড়বে। এই দুইয়ের সম্মিলিত চাপে মূল্যস্ফীতি আবার দুই অঙ্কের ঘরে চলে যাবে। জ্বালানির সঙ্গে অর্থনীতির প্রায় সব খাতেরই সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এর মূল্য বৃদ্ধির একটি ‘স্পাইরাল ইফেক্ট’ কৃষিতেও পড়বে। এক কথায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিকভাবে নয়, উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়বে। তাই মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে সংকট বাড়বে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের কোনো ভারসাম্য নেই। তার ওপর জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সেই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সরকারকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। জ্বালানি তেল নিয়ে বর্তমানে নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে হবে। আশা করছি, সরকার জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জনকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণ করবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২