
কুমিল্লার ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা তুহিনকে নিয়ে সর্বত্রই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অপ্রতিম হত্যায় তুহিনকেই প্রধান অভিযুক্ত বলছে পুলিশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কে এই সাইফুল ইসলাম তুহিন?
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান জানান, কুমিল্লার সদর দক্ষিণের ২৪ নং ওয়ার্ডের সানন্দা মৈশান বাড়ি এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন। তার বয়স ১৯। ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ফেল করে ড্রপ আউট হয়। বর্তমানে এসে কোন পড়াশুনাই করেনা।
অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেবার পরিকল্পনাকারী এই সাইফুল ইসলাম তুহিন। এ ঘটনা সূত্র ধরে প্রাণ হারায় অপ্রতিম।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস রিপোর্টার রকি উল হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে তুহিনের কোন যোগাযোগ কিংবা যাতায়াত কখনো চোখে পড়েনি। তবে তার এলাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে সানন্দা গ্রাম হওয়ায় আশেপাশের এলাকাগুলোতে তার যাতায়াত অবাধ ছিলো। যে জায়গায় অপ্রতীম কে হত্যা করা হয় তার পাশেই তুহিনের বাবার মুরগির খামার। পড়াশুনা ছেড়ে দেবার পর সে ওই খামারে কাজ করে। সেখান থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে তুহিনের মাদকের সম্পৃক্ততার খবরও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে অপ্রীতম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তুহিন এলাকায় বেশি আলোচিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সাথে তার ছবি দেখা গিয়েছে এবং তাকে অনেকটা কিশোরগ্যাং লিডার মনে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তুহিনের বিরুদ্ধে কোথাও কোন অফিসিয়াল ডকুমেন্টেড অভিযোগ নেই। তবে সে ভালো না। তার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকের অভিযোগ এলাকা থেকে পাওয়া গিয়েছে। সে তার সাথে বেশ কয়েকজন কিছু কিছু যুবকের গ্যাং বানিয়ে চলতে পছন্দ করত। এ নিয়ে তার এলাকায় একটি আধিপত্য তৈরীর ইচ্ছাও থাকতে পারে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, তুহিন, কামরুল, ফাহাদের সাথে অপ্রতিম পূর্ব পরিচিত। তাদের সাথে বিভিন্ন বয়সী শিশু, কিশোর ও যুবকদের মেলামেশা রয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুর ও সানন্দা এলাকার মানুষজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাংলোর সামনে এনজয় নামে একটি ক্যাফেতে তার আড্ডা। সেখানে প্রতিনিয়ত সাত আট জন ছেলেসহ তুহিন আড্ডা দেয়। এলাকায় স্টানবাজি, এই ওই জনের টাকা তুলে দেয়া নেয়া, মোটর বাইক নিয়ে আওয়াজ তুলে ছোটাছুটি এইসবই তার কাজ। যতটুকু জানা গেছে তার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো এবং তারা এক ভাই এক বোন। বাবা মায়ের আদরের হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তার বখাটেপনা দেখা গেছে।
এদিকে তুহিনের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগের কথা শোনা গেছে। বিভিন্ন মাধ্যম বলছে, কোটবাড়ি ছোট আলমপুর এলাকার ২০ বছর বয়সী সোহাগের ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি সুজুকি মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে আর ফেরত দেয়নি তুহিন। এই ঘটনায় সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি ভিডিও করেছিলেন বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, থানায় তার বিরুদ্ধে এমন কোন ডকুমেন্টেড অভিযোগ নেই।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান প্রেস ব্রিফিংয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের এসব তথ্য নিশ্চিত করতে গিয়ে বলেন, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল। অপ্রতিমের হাত থেকে আইফোনটি ছিনিয়ে নিতে তুহিনের পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় জঙ্গলে নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডে প্রথমে তুহিন, এর ফাহাদ পর্যাক্রমে কামরুল অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে।
