
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৮৪টি গ্রামেই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন একশ্রেণির ভুয়া পশু চিকিৎসক। চিকিৎসাসংক্রান্ত ন্যূনতম প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও কাঁধে বড় ব্যাগ আর মোটরসাইকেলের সামনে-পিছনে ‘চিকিৎসক’ লিখে নিজেদের বড় ডাক্তার হিসেবে দাবি করছেন তারা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে গবাদিপশুর ভুল চিকিৎসা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা, আর মনগড়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে বিপদে ফেলছেন খামারিদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো খামারিদের। তবে বর্তমানে সকাল-বিকেল প্রতিটি গ্রামেই এসব তথাকথিত চিকিৎসকদের আনাগোনা চোখে পড়ে।
উপজেলার চান্দলা করিম এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল আক্ষেপ করে বলেন, "আগে চিকিৎসা নিতে প্রাণিসম্পদ অফিসে যাওয়া লাগত। আর এখন সকাল-বিকেল বাড়িতে বাড়িতে ভুয়া ডাক্তারের আগমন। তারা ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।"
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ভ্যাটেরিনারি ওষুধ বিক্রেতা জানান, এসব চিকিৎসকের কোনো ধারণাই নেই গবাদিপশুর সঠিক ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে। তিনি বলেন, "ভুয়া ডাক্তারের দাপটে এলাকার খামারিরা দিশেহারা। তারা বড় বড় ব্যাগ ঝুলিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ায়। নিজেদের মনগড়া মতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে গবাদিপশুর অপূরণীয় ক্ষতি করছে।"
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন অনেক ভুয়া চিকিৎসকও। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ভুয়া চিকিৎসক বলেন, "বেকার বসে থাকার চেয়ে কিছু করে খাওয়া ভালো। কয়েক মাসের একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছি। আমাদের সাধ্যের বাইরে গেলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বড় স্যারের কাছে রেফার করি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "উপজেলায় তুলনামূলকভাবে ভুয়া ও হাতুড়ে ডাক্তারের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা ভুল চিকিৎসা দিয়ে গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। এতে বহু গরু ও বাছুর স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী খামারিরা।
