কুমিল্লার লালমাইয়ে মোবাইল ফোনের টাকা ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবদুর রশিদ (৩৯) নামে এক ট্রাক্টর চালককে কয়েকজন মিলে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের উৎসবপদুয়া রেলগেটের প্রায় ৩০০ গজ দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আবদুর রশিদকে উদ্ধার করে। স্থানীয়রা তাকে হরিশ্চর ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবদুর রশিদ উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক্টর চালক এবং দুই সন্তানের জনক।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সাতানি গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আলামীন (৩৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মুগরা গ্রামের আবদুল বারিকের ছেলে আবদুল মান্নান (৩৩), পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলী আক্কাসের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩৪) এবং উৎসবপদুয়া গ্রামের রৌশন আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২৫)।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের টাকা ও মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আবদুর রশিদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় একটি সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে উৎসবপদুয়া রেলগেট থেকে প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে রেললাইনের পশ্চিম পাশে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে আবদুর রশিদ মোবাইল ফোনে কথোপকথন রেকর্ড করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে তারা চলে যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আবদুর রশিদকে উদ্ধার করে হরিশ্চর ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোন নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তরা মাদকের সঙ্গে জড়িত। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে এবং তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
