লাকসাম রেলওয়ে জংশনে রেললাইনের সিগন্যাল (সংকেত) পয়েন্ট থেকে মোটর চুরি হওয়ায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে ট্রেন চলাচল। এতে ওই রেললাইনের সিগন্যাল (সংকেত) পয়েন্টে ট্রেন অতিক্রমের সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা।
মোটর চুরির ঘটনায় তিনদিনেও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থানায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা কিংম্বা অভিযোগ করেনি। এমন কি চুরি যাওয়া মোটর উদ্ধার বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতেও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা। তাছাড়া ওই রেললাইনের সিগন্যাল পয়েন্টে নতুনভাবে মোটর সংযোজনও করা হয়নি। ফলে ওই সিগন্যাল পয়েন্ট এখন অকেজো এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
লাকসাম রেলওয়ের জংশন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালী ও চাঁদপুর রেলপথে পাথর দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পাথরবাহী ট্রেন স্টেশনের ৫ নম্বর লাইনে অবস্থান করছিল। ট্রেনটি চালাতে সিগন্যাল (সংকেত) দিতে গিয়ে দেখা যায় ওই লাইনের ৩৩-এ নম্বর পয়েন্ট বিকল হয়ে রয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বরত কর্মচারি ঘটনাস্থলে (স্টেশনের দক্ষিণাংশে) যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, ওই লাইনের সিগন্যাল পয়েন্টের মোটর নেই। ফলে সিগন্যাল হচ্ছে না। এ বিষয়টি কর্তাব্যক্তিদের অবহিত করা হয়। এমতবস্থায় পাথরবাহী ট্রেনটি পেছনের দিকে নিয়ে পুনঃরায় ভিন্ন একটি লাইনে পরিচালনা করেন।
এদিকে লাকসাম রেলওয়ে থানার (জিআরপি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিব কুমার কর জানান, মোটর চুরির ঘটনায় থানায় এখনো কেউই কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেনি। লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কর্মরত জেষ্ঠ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে দায়সারাভাবে আমাকে অবহিত করেছেন। বিষয়টি অবগত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি জানান, সিগন্যাল পয়েন্টের মোটর খুলতে নির্দিষ্ট চাবি লাগবে অথবা ভাংগতে হবে। কিন্তু সিগন্যাল পয়েন্টে সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে, তবে মোটর নেই! এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ যথাযথ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাকসাম রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি), উপ-পরিদর্শক মো. মঞ্জুরুল ইসলামও একই কথা বলছেন।
তিনি জানান, একদিকে তাঁদের লোকবল কম। অপরদিকে রেলওয়ের ইয়ার্ড অন্ধাকারাচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া, ঝোপ-জঙ্গলে ভরে গেছে। সাপ-বিচ্ছুর ভয় রয়েছে। ফলে নিয়মিত পাহারায় তাঁদের চরম অসুবিধায় পড়তে হয়।
লাকসাম স্টেশন মাস্টার (এসএম) মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ঘটনার বিষয়ের আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে দায়সারাভাবে বিভিন্ন দপ্তরে একটি চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্বশেষ করেন।
এই ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কর্মরত জেষ্ঠ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) সাদ্দাম হোসেনের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুনঃরায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি থানায় অভিযোগ কিংম্বা মামলা দায়ের না করার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
তিনি জানান, সিগন্যাল পয়েন্টের মোটর চুরির ঘটনাটি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন।
এই ব্যাপারে শুক্রবার (১৮) বিকেল ৪:৩৫ মিনিটে মুঠোফোনে বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগীয় সিগন্যাল
(সংকেত) ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (ডিএসটিই) মো. আশিকুর রহমান বলেন, লাকসামে সিগন্যাল পয়েন্টে মোটর চুরির ঘটনা এটি প্রথম। তবে এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আলীশ্বর, লালমাই, শশীদল, কসবা এলাকায় এরকম মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওইসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে।
তিনি জানান, গত মাসে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় কয়েকজন চোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছেন। এসব চুরি রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও এলাকার সচেতনমহলের প্রতি সার্বিক সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।
