শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বিধাতা
বলাইচাঁদ মুখপাধ্যায়
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২১ এএম আপডেট: ১৯.০৯.২০২৬ ১২:৪৮ এএম |


গরু বাছুর, সকলে তখন একটা বাঘ বাঘের বড় উপদ্রব। মানুষ অস্থির হইয়া উঠিল। শেষে মানুষ পর্যন্ত বাঘের কবলে মারা পড়িতে লাগিল। লাঠি সড়কি বর্ণা বন্দুক বাহির করিয়া বাঘটাকে মারিল। গেল, কিন্তু আর একটা আসিল। শেষে মানুষ বিধাতার নিকট আবেদন করিল-
ভগবান, বাঘের হাত হইতে আমাদের বাঁচাও।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
কিছু পরেই বাঘরা আসিয়া বিধাতার দরবারে নালিশ জানাইল, আমরা মানুষের জ্বালায় অস্থির হইয়াছি। বন হইতে বনান্তরে পলাইয়া ফিরিতেছি। কিন্তু শিকারী কিছুতেই আমাদের শান্তিতে থাকিতে। দেয় না। ইহার একটা ব্যবস্থা করুন।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
তৎক্ষণাৎ নেড়ার মা বিধাতার নিকট আবেদন পেশ করিলেন, বাবা, আমার নেড়ার যেন একটি টুকটুকে বউ হয়। দোহাই ঠাকুর, তোমায় পাঁচ পয়সার ছিন্নি দেব।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
হরিহর ভট্টাচার্য মামলা করিতে যাইতেছিল। সে বিধাতাকে সম্বোধন করিয়া বলিল, আএখন তোমার পূজো ক'রে এসেছি। উপবাসে দেহ ক্ষীন্ন করেছি। শালা ভাইপোকে আমি দেখে নিতে চাই। তুমি আমার সহায় হও।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
সুশীল পরীক্ষা দিবে। সে রোজ বিধাতাকে বলে, ঠাকুর, পাড়করিয়ে দাও। আজ সে বলিল, ঠাকুর যদি স্কলারশিপ পাইয়ে দিতে পার, পাঁচ টাকা খরচ ক'রে হরির লুট দেব।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
হরেন পুরকায়স্থ ডিস্ট্রীক্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান হইতে চায়। কালী পুরোহিতের মারফত সে বিধাতাকে ধরিয়া বসিল, এগারোটা ভোট আমার চাই! কালী পুরোহিত মোটা রকম দক্ষিণা খাইয়া ভুল সংস্কৃত মন্ত্রের চোটে বিধাতাকে অস্থির করিয়া তুলিল। ভোটং দেহি, ভোটংদেহি-
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা, আচ্ছা।
কৃষক দুই হাত তুলিয়া কহিল, দেবতা, জল দাও!
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
পীড়িত সন্তানের জননী বিধাতাকে প্রার্থনা জানাইল, আমার একটি মাত্র সন্তান, ঠাকুর কেড়ে নিও না।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
পাশের বাড়ীর ক্ষেন্তি পিসি উপরোক্ত মাতার সম্পর্কে বলিলেন, বিধাতা, মাগীর বড় দেমাক। নিত্য নতুন গয়না প'রে ধরাকে সরা জ্ঞান করছিল। ছেলের টু'টিটি টিপে ধ'রে বেশ করেছ দয়াময়। মাগীকে বেশ একটু শিক্ষা দিয়ে দাও তো।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
দু'টি কহিল, হে বিধাতা, তোমাকে বুঝিতে চাই।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
চীন দেশ হইতে চীৎকার আসিল, জাপানীদের হাত হইতে বাঁচাও প্রভু।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
বাংলা দেশ হইতে এক তরুণ ধরিয়া বসিল, কোনও সম্পাদক আমার লেখা ছাপিতেছে না। 'প্রবাসী'তে লেখা ছাপাইতে চাই।
রামানন্দবা কে সদয় হইতে বলুন।
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা।
একটু ফাঁক পড়িতেই বিধাতা পার্শ্বোপবিষ্ট ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার বাসায় খাঁটি সরষের তেল আছে?
ব্রহ্মা কহিলেন, আছে। কেন বলুন তো?
বিধাতা। আমার একটু দরকার। দেবেন কি?
ব্রহ্মা। (পঞ্চমুখে) অবশ্য, অবশ্য।
ব্রহ্মার বাসা হইতে ভাল সরিষার তৈল আসিল। তৎক্ষণাৎ তাহা নাকে দিয়া গাঢ় নিদ্রায় আভভূত হইয়া পড়িলেন। বিধাতা
'আজও ঘুম ভাঙে নাই।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২