শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
মোবাইল আসক্তি- বর্তমান সময়র অন্যতম গুরুতর সমস্যা
মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ এএম আপডেট: ১৮.০৯.২০২৬ ১:৫৩ এএম |

 মোবাইল আসক্তি- বর্তমান সময়র অন্যতম গুরুতর সমস্যা
এ কথা অনস্বীকার্য যে, মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ে মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সঙ্গী। মোবাইল ফোন আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। এর পাশাপাশি এটি আমাদের অলক্ষ্যেই আমাদেরকে তার দাসে পরিণত করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই আশীর্বাদ এখন অনেকের জন্যই এক চরম আসক্তিতে রূপ নিয়েছে। মোবাইল আসক্তি বর্তমান যুগের একটি অন্যতম গুরুতর ও নীরব সমস্যা। মোবাইলে এসএমএস অ্যালার্ট এবং নোটিফিকেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবামূলক, বিনোদনমূলক ও বাণিজ্যিক তথ্য পাওয়ার সুবিধা, বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত যোগাযোগ-এসবের সুবাদে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেতে বন্দি হয়ে আছে মানুষ। বলা হচ্ছে সর্বনাশা মাদকের নেশার চেয়েও ভয়ংকর স্মার্টফোনের নেশা। ফোনটি আপনার প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন, নাকি ফোনটির প্রয়োজনে আপনি সময় দিচ্ছেন-সেটি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণা মতে সারা পৃথিবীতে ৬৮০ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন; প্রায় ১৫৮ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন আসক্তিতে আক্রান্ত।
মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের সামাজিক জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করছে। মোবাইল ফোন আসক্তি বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের এখন মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই আজ মোবাইল আসক্তির শিকার। বর্তমান সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধবরা সামনাসামনি কথা বলার চেয়ে ভার্চুয়াল যোগাযোগের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। বাবা-মা ব্যস্ততার কারনে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ায় শিশুরা ছোট থেকেই ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মানসিক অবসাদ বা চাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে ফোনকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়। বাবা- মা অফিস বা কাজ থেকে বাসায় ফিরে আবার মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বড়দের দেখাদেখি বাচ্চারাও স্কুল থেকে এসে ব্যাগ রেখেই স্মার্টফোনে হাতে নিয়ে গেম খেলা বা অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। অনেক বাচ্চা আবার মোবাইল না দিলে খেতেও চায় না। অনেকের মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে কী করছে তা জানার জন্য এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা বা ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’- ফোমো তৈরি হচ্ছে। যা প্রকারান্তরে শারিরীক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। বাস্তব জীবনের চেয়ে অনলাইনে সময় কাটানোয় মানুষ ক্রমেই একা হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক মেলামেশা কমে যাচ্ছে, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আবেগ ও সহানুভূতি কমে যাচ্ছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ জীবন হারাচ্ছে।
মোবাইল আসক্তির ভয়াবহ এ প্রবণতায় বিশেষ করে উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েরা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক বিরাট সংকটকাল অতিক্রম করছে। কম বয়সীশিক্ষার্থীদের মধ্যে এ যন্ত্রটি এমন একটি নেশা তৈরি করছে, যার কারণে পারিবারিক কলহ বেড়ে চলেছে,  বিবাহিতদের মাঝে বাড়ছে ডিভোর্সের প্রবণতা। কিশোরগ্যাং গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।  চুরি, ছিনতাই বেড়েছে, এমনকি মোবাইলকে কেন্দ্র করে খুনও হচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, মোবাইল আসক্তি স্কুল-কলেজের তরুণ-তরুণীদের চরম মানসিক অস্থিরতার কারণ হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীরা গড়ে প্রতিদিন ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়, যার পেছনে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাট-এর মতো অ্যাপগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। বেশি বেশি ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে, স্ক্রল করে এক ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে যাওয়ার ফলে মনোসংযোগ ও ধৈর্য্য হ্রাস পায়। বিভিন্ন বয়সের অনেকেই অনেকটা সময় ধরে ঘাড় গুঁজে ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়, কোমর ও পিঠের ব্যথা, অনিদ্রা, চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তায় ভুগছেন। 
‘পাবমেড’ (মেডিক্যাল লিটারেচার অ্যানালিসিস অ্যান্ড রিট্রিভাল সিস্টেম অনলাইন)-এ প্রকাশিত একটি বৃহৎ পরিসরের মেটা-বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সাধারণ জনসংখ্যার প্রায় ২৬.৯৯% মানুষ স্মার্টফোনের প্রতি আসক্ত। বিশ্বব্যাপী গড়ে প্রতিদিন স্ক্রিন ব্যবহারের সময় প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট; ব্যবহারকারীরা দিনে গড়ে ৯৬ বার তাদের ফোন আনলক করেন। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ডিজিটাল আসক্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, স্মার্টফোনের সমস্যাযুক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং ব্রাজিল শীর্ষে রয়েছে; অন্যদিকে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে এই গড় হার কম। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি শিশু প্রথমবারের মতো অনলাইনে যুক্ত হয়। এর অর্থ হলো প্রতি আধা সেকেন্ডে একজন নতুন শিশু ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হচ্ছে। আমেরিকার বিখ্যাত প্রযুক্তি ও কন্টেন্ট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সেল ফোন আসক্তি সংক্রান্ত গবেষণায় উঠে এসেছে, ৬৬% মানুষ দিনে ১৬০- ১৮৬ বার তাদের ফোন চেক করেন ; ৭১% মানুষ ঘুমানোর সময় ফোনটি নিজেদের পাশেই রাখেন; ৪৪% মানুষ জানিয়েছেন যে, ফোন ছাড়া তারা একটি দিনও কাটাতে পারবেন না ; ৪৬% মানুষ বলেছেন, ফোন কাছে না থাকলে তারা উদ্বিগ্ন বোধ করেন; ৬১% মানুষ ফোন ব্যবহার করতে না পারলে কিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ভোগেন; ৩৫% মানুষ তাদের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গীর চেয়ে ফোনের পেছনেই বেশি সময় ব্যয় করেন। ফোন আসক্তি বিষয়ক পরিসংখ্যান ২০২৬ অনুযায়ী, আমেরিকানরা গড়ে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের ফোনে ব্যয় করেন। ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৪৭ শতাংশ আমেরিকান তাদের ফোন ব্যবহারের ফলে মানসিক বা আবেগীয় স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ৮৮.৬% মানুষ ঘুম থেকে জাগার ১০ মিনিটের মধ্যে ফোন চেক করেন; ৯৬.৫% মানুষ শোয়ার সময় তাদের ফোন চেক করেন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস রিভিউ সাময়িকী দেয়া তথ্যমতে, ২০১০ সালের কর্মক্ষেত্রে ৩৯ % তরুণ ম্যানেজারের মুঠোফোনে আসক্তি সাম্প্রতিক সময়ে ৭৫% ছাড়িয়ে গেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে জানা যায়, ৪৬% মুঠোফোন ব্যবহারকারী ‘ফোন ছাড়া বাঁচবই না’ এমনটিই মনে করেন। মূলত এই আসক্তি তাদের রীতিমত মানসিক রোগে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, তরুণরা এখন মুঠোফোনকে তাঁদের শরীরের অঙ্গই মনে করে। ফ্লোরিডা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, মুঠোফোনে আসক্ত ব্যক্তিদের উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগে আক্রান্ত সহ নানাবিধ জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অবস্থা এতোই ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে যে, মুঠোফোনে আসক্তিকে পিসিম্যাগ প্লেগ রোগের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও আসক্তি শিক্ষার্থীদের গভীর মনোযোগ নষ্ট করে এবং তাদের পরীক্ষার ফলাফল ও শেখার গতি কমিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক শিক্ষাগত ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালিত এক গবেষণায় তথ্য উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের ৮৬% প্রি-স্কুল শিশু স্মার্টফোনে আসক্ত। এর মধ্যে ২৯% শিশুর মারাত্মকভাবে স্মার্টফোনের আসক্তি রয়েছে। এছাড়াও খেলার মাঠের অভাবে ৫২ শতাংশ ও খেলার সাথীর অভাবে ৪২% শিশু স্মার্টফোনের দিকে আসক্ত হচ্ছে। ৭৯% প্রি-স্কুল শিশু কার্টুন বা কল্পকাহিনী দেখার জন্য, ৪৯% গেম খেলার জন্য, ৪৫%শিশু টেলিভিশন/ভিডিও দেখা বা গান শোনার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করে। অন্যদিকে, শুধু ১৪% শিশু অধ্যায়নের উদ্দেশ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এক জরিপে দেখা যায়, অবিভাবকরা কেন সন্তানদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দেন-এই প্রশ্নের জবাবে, ৭৩% মা বলেছেন, তারা তাদের বাচ্চাদের স্মার্টফোনের সাথে ব্যস্ত রাখতে চান, যাতে তারা তাদের কাজ বিনা বাধায় করতে পারেন। ৬৭% মা তাদের সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য এবং ৩১% মা শিশুকে ঘুম পারানোর জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মা-বাবার প্রতিদিনের স্মার্টফোনের ব্যবহারের মাত্রা তাদের সন্তানের স্মার্টফোন আসক্তির কারণ। অধিক আয়ের পরিবারের (মাসিক ২৫০০০ টাকা বা তার বেশি) বাচ্চারা অধিক হারে স্মার্টফোনে আসক্ত। স্মার্টফোন আসক্তিতে বাচ্চাদের ঘন ঘন মেজাজ পরিবর্তন, কারণ ছাড়াই রেগে যাওয়া, অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিত ঘুম, অমনযোগিতা, ভুলে যাওয়া, ভাষার দক্ষতা বিকাশ না হওয়া এবং ভাই-বোন, বাবা-মা ও খেলার সাথীদের সাথে বিচ্ছিন্নতাসহ বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়। যুক্তরাজ্যের চক্ষুবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ব্যবহারকারিদের দৃষ্টিশক্তি কমে যাবে, শ্রবণশক্তি হ্রাস পাবে। এ ছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন অসংগতি দেখা দেবে।
মোবাইল আসক্তি মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি নিঃশেষ করে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মোবাইল আসক্তি সামষ্টিক অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করে - জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করলেও, এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও তরুণ পেশাজীবীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, মেধা, মনন, প্রতিভা ও সৃজনীশক্তি নষ্ট হচ্ছে, সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে হ্রাস করছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার সাথে ঘুমের অভাব, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং ঘাড়ে টান পড়ার মতো শারীরিক সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ও অপব্যবহারের কারণে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়া বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত গুরুতর সামাজিক উদ্বেগ।
সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য মোবাইল ফোনের পরিমিত ও সচেতন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এ ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। এর ভয়াবহতা বা আসক্তি থেকে ছেলেমেয়েদের দূরে রাখতে হলে তাদের যোগাযোগ ঘটাতে হবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে; হতে তুলে দিতে হবে আকর্ষণীয় বই, পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে মোবাইল আসক্তি কমানো যেতে পারে। আসক্তি তৈরি করে এমন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো হোমস্ক্রিন থেকে সরিয়ে রাখতে হবে। দিনে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করা যাবে তার একটি সময়সীমা বা রুটিন তৈরি করা উচিত। ঘুমানোর অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে মোবাইল ব্যবহার করে দিতে হবে। এবং বিছানায় ফোন সাথে রাখা যাবে না। ডিজিটাল স্ক্রিনের বাইরে এসে অফলাইন শখ বা কাজে সময় দেওয়া, যেমন বই পড়া, বাইরে হাঁটা, খেলাধুলা বা ছবি আঁকার মতো অফলাইন শখ বা কাজে সময় দিতে হবে।
মোবাইল ফোন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনেক প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ। যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বাধুনিক সহজ প্রযুক্তি হচ্ছে মোবাইল ফোন। এর বিকল্প এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এর ব্যবহারে প্রাপ্য সুবিধা অস্বীকার করার উপায় নেই।  তবে এটির অতি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক,  সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কখনো কখনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ডিভাইসটি ব্যবহারে আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা খুবই জরুরি। মনে রাখতে হবে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের সুবিধার জন্য তৈরি হয়েছে, জীবনের নিয়ন্ত্রক হওয়ার জন্য নয়। সবসময় খেয়াল রাখতে হবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন সকলের জন্য ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসে। আসুন মোবাইল ব্যবহারে সচেতন হই, নিজেকে ও পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেই।
লেখকঃ  সমাজকর্মী, গবেষক, কলাম লেখক, এবং একজন সরকারি কর্মচারী।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২