রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দেশে কোটিপতি বাড়লেও রিটার্নে কম
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২১ এএম |

দেশে কোটিপতি বাড়লেও রিটার্নে কমদেশে কোটিপতির সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ালেও রিটার্নে কোটিপতি করদাতার সংখ্যা মাত্র ৪০ হাজার। তার অর্থ দাঁড়ায়, এখনো অনেক কোটিপতি করের আওতায় আসেনি। বিভিন্ন কৌশলে সম্পদশালীরা আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করে রিটার্ন দাখিল করে থাকেন। এনবিআর এ ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন জমার নিয়ম করলেও অনেকেই তথ্য গোপন করে যাচ্ছেন। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই হিসাব গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ। এর মধ্যে প্রতি করবর্ষে নিয়মিতভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেন গড়ে ৪৩ থেকে ৪৬ লাখ করদাতা। বাকি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টিআইএনধারী এখনো রিটার্ন দাখিলের বাইরে থাকছেন।
এনবিআরের আরেকটি তথ্যমতে, ২০২১-২২ করবর্ষে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে ১৪ হাজারের কিছু বেশি হয়। ২০২২-২৩ করবর্ষে ৩৫ হাজারের বেশি ছিল। পরের দুই বছরও কোটিপতি করদাতার সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। গত ২০২৫-২৬ করবর্ষে কোটিপতি করদাতার সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার হয়।
এনবিআরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আসা কোটি টাকার বেশি দামের ১২টি বিলাসী গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব গাড়ি জাল কাগজপত্র দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব জাল কাগজপত্র বিআরটিএর অসাধু দালালচক্র তৈরি করে দিয়েছে বলেও শুল্ক গোয়েন্দার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কোটি টাকা দামের একটি গাড়ির তথ্যও রিটার্নে দেখানো হয়নি। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) তথ্যানুসারে, দেশে কোটি টাকার গাড়ির মালিক ৬০ হাজারের বেশি।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকের থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরের তথ্যভান্ডারের করদাতার ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাওয়া গেলে রিটার্নে ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপন করার সুযোগ বন্ধ হবে। অনেকে করযোগ্য হয়েও ই-টিআইএন নেননি। আবার অনেকে রিটার্নে তথ্য গোপন করে কর ফাঁকি দিচ্ছেন। তাদের মতে, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এনবিআরের অনলাইন তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা চালু হলে আয় ও সম্পদ গোপনের এ সুযোগ বন্ধ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, এনবিআর কর ফাঁকি রোধে তৎপরতা বাড়িয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রস্তুতি শেষ হয়নি। এনবিআরকে করের আওতা বাড়াতে হবে। কর ফাঁকি বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরটিএ, বন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একইভাবে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, রিহ্যাবসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে দেশের কোটিপতি বা সম্পদশালীদের সম্পর্কে তথ্য এনবিআর সহজে সংগ্রহ করতে পারবে।
কর ফাঁকি রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরকে আরও গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে হবে। লোকবলের সংকট দূর করতে হবে। এনবিআরের সব কাজে ডিজিটালাইজেশন করা জরুরি। করজালের বাইরে যারা রয়েছেন কর ফাঁকি রোধে তাদের নজরদারির আওতায় আনতে হবে। করদাতার সব ধরনের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাতে এনবিআরের তথ্যভান্ডারে চলে আসে সেটি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সর্বোপরি, করদাতার হয়রানি যাতে না হয় সেটাও নিশ্চিত করা জরুরি।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২