
শিল্পীদের কাজের সুযোগ সংকুচিত করা এবং শিল্পীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যয় করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বর্তমান বেতার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিল্পীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার সম্মানির হার বাড়ালেও কাজের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। এ কারণে তাদের আয় আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে নতুন কাঠামো নিয়ে তাদের যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তা হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো-বেতারের অনুষ্ঠান বা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, এমন কিছু অনিয়মিত কর্মীও পাচ্ছেন শিল্পীসম্মানীর অর্থ। অনুষ্ঠান সহযোগী, অফিস সহায়ক কর্মীসহ পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নামও আছে এ তালিকায়।
শিল্পীদের অভিযোগ-সম্মানি বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের সুযোগ কমিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুবিধা কার্যত মিলবে না। আর শিল্পী খাতের অর্থ কারা পাচ্ছেন, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং নতুন শিল্পী তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ-এসব প্রশ্নের জবাবও প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, অনিয়মিত কর্মী ও অনুষ্ঠান সহযোগীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রকৃত শিল্পীদের জন্য বরাদ্দ অর্ধেকের বেশি অর্থ তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জনবলসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় কিছু কাজের জন্য অনিয়মিত এসব কর্মীকে সম্মানি দিতে হচ্ছে। তবে শিল্পীভাতা প্রদানে দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক শ্রেণিবিভাজনের এই অসংগতি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে শিল্পীদের সম্মানি কাঠামো বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বাজেটসংকটকে।
দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীসম্মানি পুননির্ধারণের দাবি ছিল। নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর তারা আশা করেছিলেন সম্মানির হার বাড়ার পাশাপাশি কাজের সুযোগও বাড়বে। কিন্তু অনেকের অভিযোগ, বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর তাদের অনেকের কাজ অর্ধেক হয়েছে। ফলে কাজপ্রতি সম্মানি বাড়লেও মাস শেষে মোট আয় কমেছে। শিল্পীদের প্রশ্ন-তাহলে এ খাতের অর্থ কারা পাচ্ছেন। তাদের দাবি প্রকৃত শিল্পীদের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ অনিয়মিত কর্মী ও অনুষ্ঠান সহযোগীদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অতীতেও অডিট আপত্তি উঠেছে। ফলে বিগত কয়েক বছরের শিল্পীসম্মানির মাস্টাররোল, ভাউচার, চুক্তিপত্র এবং বাজেট ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহিদ বলেন, শিল্পীর সক্ষমতা এবং অনুষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনায় কাজের সুযোগ নির্ধারণ করা হয়। বেতার একটি কণ্ঠনির্ভর মাধ্যম। তাই বয়স নয়, শিল্পীর সক্ষমতা ও অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনায় রাখতে হয়। সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাস্তবায়নের সমস্যা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিল্পীদের যথার্থ সম্মানি দেওয়ার আশা করছে বেতার কর্তৃপক্ষ।
শিল্পীদের কাক্সিক্ষত সম্মানি যদি যৌক্তিক না হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জানা গেছে, অনিয়মিত শিল্পীদের নিয়ে চলমান বিতর্ক ও সংকট সমাধানে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। যেসব অভিযোগ ভুক্তভোগী শিল্পীদের কাছ থেকে উঠে এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
আমরা আশা করব, বেতারশিল্পীদের দ্রুত সংকট সমাধানে মন্ত্রণালয় একটি ভালো উদ্যোগ নেবে।
