নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা বৈধ জমিটুকু রক্ষা এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে বাঁচার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের পাণ্ডুঘর গ্রামের বাসিন্দা হাজী আক্তার হোসেন। সম্পূর্ণ পৃথক মালিকানাধীন সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ এনে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে রবিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন জানান, ২০২২ সালে স্থানীয় জেসমিন আক্তার থেকে নিয়মমাফিক প্রথমে ৩০ শতক এবং পরবর্তীতে একই বছরের ২৮ নভেম্বর পৌনে ৬ শতক জমি বিক্রি ও হস্তান্তর করেন। কিন্তু এই বিক্রিত জমির বাইরে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তাঁর নিজস্ব মালিকানায় আরও ৩ শতক জমি রয়েছে, যা তিনি বর্তমানে একটি নার্সারির জন্য ভাড়া দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, জমি হস্তান্তরের পর থেকেই ঐ ৩ শতক জমির ওপর চোখ পড়ে জেসমিন আক্তার এবং তাঁর সহযোগী বাহারাম, আখি আক্তার, পাখি আক্তার ও আলমের। জমিটি জবরদখলের উদ্দেশ্যে চক্রটি আক্তার হোসেনের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ধারাবাহিকভাবে মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
পূর্বেও নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী বাঙ্গরা বাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরবর্তীতে আদালতে নন-জিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদালতে মুচলেকা দিয়ে অভিযুক্তরা সাময়িক শান্ত হলেও সম্প্রতি পুনরায় জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। সর্বশেষ, আক্তার হোসেনের ভাড়া দেওয়া নার্সারির মালিক সুমন ও তাঁর কর্মচারীদের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এতে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রবীণ আক্তার হোসেন বলেন, "জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে আমি কোনো সংঘাত বা মারামারিতে যেতে চাই না। নিজের বৈধ সম্পত্তিটুকু রক্ষা করে পরিবার নিয়ে শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই।"
ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে সন্ত্রাসী চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সম্পত্তি উদ্ধার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
