নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে যা যা প্রয়োজন- জেলার সকল নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে বসে তার সবই করা হবে। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হবেই। তবে এ নিয়ে কোনো ধরণের আঞ্চলিক বিদ্বেষে জড়ানো সমীচীন হবে না।
সোমবার কুমিল্লা জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয়াবলী নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে পরিচিতি পর্ব ও মতবিনিময় সভা শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
এসময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের পক্ষে তার অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, আমি তখন কুমিল্লার দায়িত্বে ছিলাম না। কিন্তু তারপরও কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে একমত পোষণ করে সই দিয়েছি।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কুমিল্লা বিভাগ করতে যা যা প্রয়োজন আমরা সবাই মিলে বসে করবো। কুমিল্লা বিভাগ হবেই। জুলাই সনদে বাংলাদেশের দুটি বিভাগ করার সিদ্ধান্ত দেয়া আছে। একটা হচ্ছে কুমিল্লা আরেকটা ফরিদপুর।
অপরদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, কুমিল্লা বিভাগ তো হয়েই গেছে; এ নিয়ে আমরা যেনো কোনো প্রকার আঞ্চলিক বিদ্বেষে না জড়াই। তিনি বলেন, কুমিল্লার সাথে নোয়াখালীর দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও আত্মীয় সম্পর্কে আছে। আমরা চাইনা কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে নোয়াখালী ও কুমিল্লার মধ্যে কোন আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হোক।
এদিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকার নিরাপত্তা, আকার আর চাহিদার কথা চিন্তা করে কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন যাত্রা শুরু প্রস্তাবের কথা জানান গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এর কাজ চলমান আছে বলেও জানান গণপূর্ত মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন হয়েছে ১৫ বছর কিন্তু মেট্রোপলিটন পুলিশ হয় নি এতদিনেও। তবে এই সরকার খুব দ্রুতভাবে এই মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে পুলিশ সঙ্কট কমে আসবে।
এর আগেই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল ইসলাম শাওন, কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পুত্র খন্দকার মারুফ হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আকতার, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ সরকারের সকল দপ্তরের দপ্তর প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ।
