সৌরভ মাহমুদ হারুন।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বারেশ্বর গ্রামের কৃতী সন্তান, মরহুম রেহান উদ্দিন মাস্টারের ছেলে এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ মাইন উদ্দিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা, জেল-জুলুম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও দলীয় আদর্শ ও নেতাকর্মীদের প্রতি তাঁর আস্থা ও ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়েনি। মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক চেতনা বুকে ধারণ করে পথচলা শুরু করেন মাইন উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন। এরপর থেকে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাইন উদ্দিন বলেন, বারেশ্বর গ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং যেকোনো দুঃসময়ে কর্মী-সমর্থকদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি। দলের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিকূল সময়েও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেছেন।
২০১১ সালে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় তিনি রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে পরাজিত হলেও থেমে যাননি তিনি। বরং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিজের রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানান তিনি।
বর্তমানে মাইন উদ্দিন রাজাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এলএলবি পাস করে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কুমিল্লা কোর্টে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করে মাইন উদ্দিন বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর ভালোবাসা, সমর্থন এবং সহযোগিতা পেলে তিনি রাজাপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
তিনি বলেন, “রাজাপুর ইউনিয়ন আমার নিজের এলাকা। এই মাটির মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। জনগণের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে ইউনিয়নের ভাঙাচোরা রাস্তা, অবহেলিত জনপদ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো পরিকল্পিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেব। শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।”
মাইন উদ্দিন আরও বলেন, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি। “আমাদের সংসদ সদস্য হাজী মোঃ জসিম উদ্দিন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমি তাঁর এই নীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে রাজাপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করব। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা থাকবে।”
তিনি বলেন, রাজাপুরকে শুধু মাদকমুক্ত নয়, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী একটি ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামকে উন্নয়নের আওতায় এনে নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁর লক্ষ্য।
সবশেষে মাইন উদ্দিন বলেন, “আমি পদ-পদবির জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। রাজাপুরের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সকলের সহযোগিতা পেলে ইনশাআল্লাহ রাজাপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল, পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে নিজের সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করব।”
ভাই, এই ভার্সনটায় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পথচলার পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, দুঃসময়ে পাশে থাকা এবং রাজাপুরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বপ্ন—এই তিনটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চাইলে এটাকে আরওজোরালো রাজনৈতিক ফিচার/সাক্ষাৎকারধর্মী নিউজ হিসেবেও সাজানো যায়।
