অটোরিকশা ছিনতাই করতে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-তরুণ চালকদের টার্গেট করতেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের আগে চালকদের হত্যা করতেন তিনি। নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পর মানিককে গ্রেপ্তার করে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ দুটি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বয়স যথাক্রমে ১৫ ও ১৮ বছর। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা আদালতে বিচারাধীন। সে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভিকটিমের বয়স ১৭ বছর। পুলিশ বলছে, অভিন্ন উদ্দেশ্যে বিকৃত মানসিকতায় সে হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, বিকৃত মানসিকতায় ৩ এর অধিক হত্যায় জড়িতদেরকেই সাধারণত ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মানিক তিনটি হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যান্য আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে; আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোটের আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, নিহত মো. মেহেদী (১৮) একজন অটোরিকশাচালক। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। পরে মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরই মধ্যে গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়। পরে মানিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দুটি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেই মূল উদ্দেশ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাই। অটোরিকশাচালকদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী কিশোর-তরুণদের টার্গেট করে তাদের হত্যা ও অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন মানিক।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লাকসামে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
পুলিশ বলছে, মানিকের বিরুদ্ধে আগের হত্যাকাণ্ডসহ তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
