কুমিল্লার চান্দিনায় সরকার ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান চালু না হলেও গ্রামের অসহায় দরিদ্র পরিবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক অসহায় নারীদের কাছ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেয়ার নাম করে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫শ টাকা নেয় যুবদল ও বিএনপি নেতা।
ভূক্তভোগীদের পক্ষে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও করেন। অভিযোগ দায়ের করার প্রায় এক মাসেও কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশ ভূক্তভোগীরা।
অভিযুক্তরা হলেন- মহিচাইল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম, জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আবুল হোসেন।
ভূক্তভোগী নারী জোরপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা বেগম জানান- আমাদেরকে ফ্যামিলি কার্ড করিয়ে দেয়ার কথা বলে আমাদের গ্রামের বিএনপি নেতা আবুল হোসেন আমার ও আমার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ২ কপি ছবি, এনআইডি কার্ডের ফটোকপি ও প্রতিজনের জন্য ৫শ টাকা করে নেন। প্রায় দুই মাস পরও আমরা ফ্যামিলি কার্ড না পেয়ে তার কাছে যাই এবং তিনি আমাদের বিভিন্ন কথা বলে ঘুরাতে থাকেন। পরে বাধ্য হয়ে আমরা এলাকার কয়েকজনকে জানাই এবং তারা আমাদের পক্ষ হয়ে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
একই অভিযোগ করেন জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামে আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহান সহ ভূক্তভোগী নারীরা।
অভিযোগকারী শামীম আহমেদ মজুমদার জানান- খোরশেদ ও আবুল হোসেন শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, ভিজিডি ও ভিজিএফ এর চাল বিতরণেও অনিয়ম করে আসছে। গত ১৬ আগস্ট ইউএনও’র কার্যালয়ে গিয়ে স্মারক নম্বরসহ লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু আবেদনের প্রায় এক মাসেও আমাদের অভিযোগের কোন কার্যক্রম না থাকায় আমরা আবারও অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি আমাদের লিখিত অভিযোগটি ইউএনও কার্যালয়ের নথিতে নেই! যা অত্যন্ত দুঃখ জনক।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা খোরশেদ আলম জানান- আমি মূলত জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেন এর কথামতো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেই। যে টাকা নিয়েছি সেগুলো চান্দিনা সদরে যাতায়াত ও অনলাইনে আবেদন খরচ হিসেবে নিয়েছি।
জোরপুকুরিয়া গ্রামের অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল হোসেন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন- আমি তিন গ্রামে থেকে ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নিয়েছি। সেই টাকা ও কাগজপত্র এখনও আমার কাছে আছে। যারা চাইবে তাদেরকে ফিরত দিয়ে দিবো।
চান্দিনাতে এখনও কি ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে? এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান- আগে নিয়ে রেখেছি, যখন চালু হবে, তখন দিবো।
মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মিজানুর রহমান জানান- এমন ঘটনা আমার জানা নেই। খোরশেদ আলম ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেও আবুল হোসেন দলে কোন পদ-পদবি নেই। তারা এমন কাজ করে থাকলে, দলের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান- বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যেহেতু আমার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন আমি আবেদনটি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
