বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
নগরজুড়ে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য আতঙ্কে কুমিল্লার মানুষ
বশিরুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ এএম আপডেট: ৩১.০৮.২০২৬ ১:৪৭ এএম |


নগরজুড়ে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য  আতঙ্কে কুমিল্লার মানুষ কুমিল্লা মহানগরীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। দিনের বিভিন্ন সময়ে নগরীর ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে নির্জন এলাকাতেও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিদেশফেরত প্রবাসী কেউই যেন নিরাপদ নন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে ছিনতাইকারীদের তৎপরতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পুলিশ মাঝে মধ্যে ছিনতাইকারী আটক করলেও সংঘবদ্ধ চক্রের অধিকাংশ সদস্যই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে নতুন নতুন এলাকায় স্থান পরিবর্তন করে ছিনতাই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
সর্বশেষ শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নগরীর টমছমব্রিজ-মেডিকেল কলেজ সড়কের ঢুলিপাড়া চৌমুহনী এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম সাকিব জানান, ছিনতাইকারীরা ছুরি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। সম্প্রতি লাকসাম রোডে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের সামনে সিএনজি অটোরিকশায় বসে থাকা এক যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের সময় একজনকে আটক করা হয়। এ সময় অপর একজন পালিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন ইতালি প্রবাসী বিল্লাল হোসেনও। অভিযোগ রয়েছে, ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি। এ সময় তার কাছ থেকে একটি গ্রীনকার্ড, আইফোনসহ নগদ টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা  এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে গত ১৫ জুলাই।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ মাইনুদ্দিনও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। সদর উপজেলার পাশের একটি নার্সারির বিপরীত পাশ থেকে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া বরুড়ার সজীব দেবনাথের কাছ থেকেও ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওষুধের ফার্মেসিতে কর্মরত সজীবের কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায়। ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ রোডের হাউজিং এস্টেটের ৩নং সেক্টরের মাথায়। চৌদ্দগ্রাম মেডিকেল হলের সেবক চন্দ্র দাসের কাছ থেকেও দোকানের জন্য ক্রয় করা মালামাল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে। একটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন অবস্থান করে আগে থেকেই রাস্তার পাশে ওত পেতে থাকে। পরে তুলনামূলক কম যাত্রী থাকা সিএনজি অটোরিকশা, মিশুক কিংবা একা চলাচলকারী ব্যক্তির গতিরোধ করে ছুরি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন দাবি করে। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীরা ছুরি দিয়ে ভয় দেখায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতও করা হয়। ফলে প্রাণভয়ে অনেকেই সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী তুলে দিতে বাধ্য হন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরে টমছমব্রিজ থেকে কুচাইতলী সড়কটি ছিনতাইকারীদের অন্যতম প্রধান স্পটে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর এ সড়কে চলাচলকারী অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের যেকোনো সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীরা বেশি সক্রিয় থাকে। প্রশাসনের টহল বা তৎপরতা কোনো এলাকায় বাড়লে ছিনতাইকারীরা কৌশলে অন্য এলাকায় গিয়ে একই ধরনের অপরাধ চালায়। নগরবাসীর অভিযোগ, ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঘটলেও এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে গত পরশু থেকে ছয়টি পুলিশ ফাঁড়িতে ৩০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ওসি বলেন, কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনা সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন এলাকায় হওয়ায় সেগুলো সদর দক্ষিণ থানা দেখভাল করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সড়কটি মূলত সদর দক্ষিণ থানার অধীনে হওয়ায় কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশের সেখানে সরাসরি দায়িত্ব সীমিত।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, ছিনতাই প্রতিরোধে শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল, সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় নগরজুড়ে ছিনতাইয়ের আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।


















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২