কুমিল্লার
দেবিদ্বারে এক ফার্মেসি মালিকের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি পরে তা না
পেয়ে দুই দফায় ফার্মেসীতে তালা লাগানোর মামলায় দুই যুবককে কারাগারে পাঠানোর
নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে কুমিল্লা ৪ নং আমলী
আদালতের বিচারক ফাহিমা শরীফ নিশাত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত দুই যুবক হলেন,
দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর চৌরাস্তার পাশের মৃত মনু মেম্বারের ছেলে
মো. শরীফুল ইসলাম ও একই এলাকার আমিন বাড়ির মৃত সফিকুল ইসলামের ছেলে রেজাউল
করিম সুমন। তারা দুইজন স্থানীয় বিএনপির রাজনীর সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
মামলার
বিবরণে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার
পৌর এলাকার সমবায় টাওয়ারে অবস্থিত ‘দি দেবিদ্বার স্কোয়ার হাসপাতাল’-এর নিচে
দেবিদ্বার লাজফার্মা নামের একটি ফার্মেসিতে গিয়ে কর্মচারীদের জোরপূর্বক
বের করে দেন রেজাউল করিম সুমন ও শরিফুল ইসলাম। পরে তারা ফার্মেসিতে তালা
লাগিয়ে দেন। পরে ফার্মেসীর মালিক নারী উদ্যোক্তা শামীমা আক্তার আঁখি বিষয়টি
সমাধানের জন্য তাদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেও কোনো সমাধান না
পেয়ে ২৩ আগস্ট বিকালে দেবিদ্বার থানায় অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত
অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ রেজাউল করিম সুমন ও শরিফুল ইসলামকে থানায় ডেকে আনলে
পুলিশের উপস্থিতিতে তারা অভিযোগকারী শামীমা আক্তার আঁখির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে
ওঠেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের আটক করে থানার হাজতে রাখেন। এই
ঘটনায় শামীমা আক্তার আঁখি দেবিদ্বার থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের
করেন। ওই মামলায় পুলিশ তাদের আদালতে পাঠালে ওই যুবক ফার্মের্সী মালিকানা
দাবি করলে আদালত ২৭ আগস্ট ফার্মেসির মালিকানা দাবির স্বপক্ষে নথি বা
কাগজপত্র উপস্থাপন করার শর্তে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। ২৭ আগস্ট বিকালে
আদালতে মালিকানা দাবির পক্ষে নথি বা কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় তাদের
জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
ফার্মেসির মালিক
ভুক্তভোগী শামীমা আক্তার আঁখি বলেন, গত ১২ আগস্ট সকালে রেজাউল করিম সুমন ও
শরীফুল ইসলাম এসে আমার দোকানের কর্মচারীদের মারধর করে একবার দোকানে তালা
লাগিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনদিন পর তালা খুলে ব্যবসা
পরিচালনা করি। পরে ২১ আগস্ট সকালে তারা আবার জোরপূর্বক কর্মচারীদের বের করে
তালা লাগিয়ে দেয়। পরে আমরা অনেক চেষ্টা তদবীর করেও কোন সমাধান না পেয়ে ২৩
আগস্ট থানায় মামলা দায়ের করি। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে আমার কাছে ৪ লাখ টাকা
চাঁদা দাবি করেছে, চাঁদা দিলে দোকান খুলে দিবে। আমি কি কারণে তাদের চাঁদা
দেব ? তারা ভুয়া ফার্মেসীর মালিকানা দাবি করে। আমি ২০২২ সালে স্কয়ার
হাসপাতালের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এডভান্স করে ভাড়া নিয়েছি। এত বছর কেউ এসে
মালিকানা দাবি করল না। এখন তারা এসে ভুয়া মালিকানা দাবি করে। আমি আদালতের
কাছে ন্যায় বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শামিমা আক্তার আঁখি ব্যবসা
প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা
দায়ের করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত
কয়েকটি শর্তে তাদের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত জামিন দেয়। পরে ২৭ আগস্ট তারা আদালতে
উপস্থিত হয়ে শর্ত পূরণ করতে না পারায় আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে
পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পুলিশ ওই নারীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা খুলে
দিয়েছে।
