
কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়ায় টাকা-পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক বসতবাড়িতে
হামলা, ভাঙচুর, অস্ত্র নিয়ে কোপানো ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। এতে ১ জন নারীসহ
একই পরিবারের ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল ২৭ আগস্ট দুপুরে উপজেলার ২ নং
সিদলাই ইউনিয়নের সিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খন্দকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহিণী মোসাঃ ছেনরা বেগম (৪৬) বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা
হলেন— একই বাড়ির বাসিন্দা মোঃ আরিফুল ইসলাম টিপু (৩০), মোঃ মজিবুর রহমান
(৪৫), মোঃ নজরুল ইসলাম (৫০), মোঃ সাজারুল ইসলাম (১৯), মোঃ সিয়াম (১৮) এবং
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ফিগরা গ্রামের মোঃ নাহিদ (১৯)।
মামলার
এজাহার ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে বাদীর পরিবারের
দীর্ঘদিন ধরে অর্থলেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল দুপুর আনুমানিক আড়াইটার
দিকে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র—দা, ছুরি, লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে
বেআইনিভাবে ছেনরা বেগমের বসতঘরে অনাধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে।
এ
সময় প্রতিবাদ করলে আসামিরা বাদীর ছেলে মোঃ ইয়াছিন (২৪)-কে হত্যার
উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারার চেষ্টা করে। ইয়াছিন হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা
করলে তার বাম হাতের কনুই ও পেশিতে গুরুতর জখম হয়। পরবর্তীতে ছেলেকে বাঁচাতে
এগিয়ে এলে দেবোর মোঃ শামীম মিয়া (২৮)-কেও ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে
এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে
অভিযুক্তরা বসতঘরের স্টিলের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে
নিয়ে যায়। পাশাপাশি ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও বাইরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে
ক্ষতিসাধন করে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে
ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
