শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
লাকসাম জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি হচ্ছে শীঘ্রই
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ এএম আপডেট: ২৮.০৮.২০২৬ ১:৩১ এএম |




 লাকসাম জংশনে  কক্সবাজারগামী  ট্রেনের যাত্রাবিরতি হচ্ছে শীঘ্রইসৈয়দ মুজিবুর রহমান দুলাল:
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে অতি শীঘ্রই আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১ আপ এবং ৭২২ ডাউন) ট্রেন চলাচলের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) একজন উর্ধ্বতণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই রেলপথে কক্সবাজার এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস নামে দু'টি ট্রেন চলাচল করছে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ রেলওয়ে জংশন। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই জংশনের গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাঁদপুর-চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত লাকসাম রেলওয়ে জংশন। লাকসাম রেলওয়ে জংশন হয়ে এই রেলপথ দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০ জোড়া, অর্থাৎ ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। এটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে যেনো একেবারেই বেমানান। 
গত ১৩ আগস্ট কক্সবাজার রেলস্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে লাকসাম প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ এতদাঞ্চলের মানুষের পক্ষে দেশের বৃহত্তম লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানান। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মানুষের মধ্যেও আলোচনা এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়। 
এদিকে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। লাকসামের একজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট করেন, যাতে বলা হয়-১ সেপ্টেম্বর থেকে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বর্ধিত করা হয়েছে এবং লাকসামে জংশনে যাত্রাবিরতির দেওয়া হবে। ফলে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকেই সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যাবে।
স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি খবর মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস তৈরি করে। অনেকেই কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই সেই তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও শেয়ার করতে থাকেন। অথচ বাস্তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
একটি যৌক্তিক দাবি নিয়ে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু সেই আশা যদি ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর দাঁড়ায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে হতাশাই তৈরি হয়। তাই কোনো বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করা থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত। এমনটাই মন্তব্য করেন-বৃহত্তর কুমিল্লা কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম। 
তিনি বলেন, "আমরা গুজব ছড়াতে চাই না। আমরা কারও ব্যক্তিগত কৃতিত্বের প্রচারণাও চাই না। আমরা চাই, দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি"। এটি এতদাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি। দাবিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানাবেন। 
লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র দেশের খ্যাতনামা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপের পরিচালক শিল্পপতি আলহাজ মজির আহমেদ বলেন, "কত লাকসাম কত বাতি" খ্যাত বৃটিশ আমলে স্থাপিত অনেক প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ লাকসাম রেলওয়ে জংশন। যেখানে ঢাকা,চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী চারটি রুটে রেলপথ রয়েছে। অথচ এই জংশনে কক্সবাজারগামী কোনো ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। অনতিবিলম্বে লাকসাম জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানান তিনি।
লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বলেন, বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনীসহ আশপাশের অঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সাশ্রয়ী করতে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে কক্সবাজারগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতি অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি নতুন কোনো দাবি নয়। দীর্ঘদিন ধরেই লাকসামবাসী ও এই অঞ্চলের মানুষ বিষয়টি নিয়ে নানাহ সময় সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও পরিবেশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে এই যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন। 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১ আপ ও ৭২২ ডাউন) ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা চলাচলের আলোচনা চলমান রয়েছে। পথিমধ্যে যেসব স্টেশনগুলোতে ওই ট্রেনের পূর্বে যাত্রাবিরতি ছিল। সেসব স্টেশনে যাত্রাবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ১ সেপ্টেম্বর থেকে চালুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অতি শীঘ্রই ওই ট্রেন চালু করা হবে। 
তিনি বলেন, এই বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ভালো বলতে পারবেন। কারণ বিষয়টি তিনি দেখভাল করেন। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। 
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে (০১৭১১-৫০৫৩১০) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া না দেওয়ার তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি। 
অপরদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) অতিরিক্ত মহাপরিচালক আতাউল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টায় মুঠোফোনে (০১৭১১-৫০৬১০৭) কল দিলেও তিনি বার বার কেটে দেন। একপর্যায়ে হোয়াটসআপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো প্রতিত্তোর করেননি।

















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২