কুমিল্লা
নগরীতে চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও রাহাজানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কুমিল্লা টাউন হলের সামনে সচেতন
রাজনৈতিক ফোরাম, কুমিল্লা-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা শহরে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ধর্ষণের মতো
অপরাধের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। ছিনতাইকারীদের কবল
থেকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী-কেউই নিরাপদ
নন। কোথাও কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে বলে
তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ
সড়ক, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, অন্ধকার ও নির্জন এলাকায় নিয়মিত টহল
বাড়ানো, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং ছিনতাইকারী ও
অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন
থেকে কুমিল্লার প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের প্রতি
নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান
জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে
লেখা ছিল- ‘নিরাপদ কুমিল্লা চাই, ভয়মুক্ত কুমিল্লা চাই’, ‘অপরাধীদের দ্রুত
গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনো’, ‘কুমিল্লাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করো’, ‘কুমিল্লা কি নিরাপদ শহর?’, ‘চুরি-ছিনতাই-হত্যায় আতঙ্কিত
কুমিল্লাবাসী’ এবং ‘চুরি-ছিনতাই বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন’।
যুবনেতা
জোনায়েদ রায়হানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সচেতন রাজনৈতিক
ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক শাহ মো. সেলিম, সমন্বয়ক শেখ আবদুল মান্নান, যুগ্ম
সমন্বয়ক আবদুর রাজ্জাক, সাংবাদিক অশোক বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন,
উদীচী কুমিল্লার সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক রাহুল তারণ পিন্টু,
সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আবুল কাসেম, হিন্দু-বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাধারণ
সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খোকন চন্দ, খেলাঘর কুমিল্লার সাধারণ
সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলীপ চন্দ, নারী নেত্রী সাহানা হক, শিক্ষক নেতা শান্তি
ভূষণ দেবনাথ, যুবনেতা বোরহান ও মেহেদী হাসান, সুমী বড়ুয়াসহ বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
রাজনৈতিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক শাহ মো.
সেলিমবলেন, একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ
মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে
আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। বিগত ১৭ বছরে কিশোর
গ্যাং যে সৃষ্টি হয়েছে তা নিভৃত হয়নি, থানা থেকে যে অস্ত্র লুট হয়েছে তা
উদ্ধার করতে পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার সুখী
সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে সকল বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে সজাগ দৃষ্টি রেখে
পাড়া-মহল্লায় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে
তুলতে হবে।
