দান
করেছেন, কিন্তু প্রচার করেননি। অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু
প্রতিদানের প্রত্যাশা করেননি। শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
করেছেন, অথচ নিজের মানবিক কাজগুলো রেখেছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। এমনই একজন
সাদাসিধে, নিরহংকার ও মানবিক মানুষ ছিলেন বিজরা বাজার ও কাতারের বিশিষ্ট
ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক মরহুম হাজী আব্দুল মমিন মজুমদার।
তাঁর রুহের
মাগফেরাত কামনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার
বিজরা উত্তর বাজারে বিজরা বাজার পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া
মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মরহুম আব্দুল মমিন মজুমদারের স্মৃতিচারণ করতে
গিয়ে বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, মমিন সাহেব শুধু একজন
ব্যবসায়ী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসংখ্য মানুষের আশ্রয় ও ভরসার জায়গা।
বিপদে-আপদে মানুষ তাঁর কাছে ছুটে গেলে কাউকে খালি হাতে ফিরতে হতো না।
বক্তারা
বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসায় সহযোগিতা, গৃহহীন মানুষের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া,
অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতে সহযোগিতা—মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় নীরবে পাশে
দাঁড়িয়েছেন তিনি। দেশে ও কাতারে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও
করেছেন। তাঁর এসব মানবিক কাজের অধিকাংশই ছিল প্রচারের আড়ালে।
“দান
করতেন, কিন্তু কাউকে জানিয়ে নয়-এটাই ছিল মমিন সাহেবের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
বক্তাদের এমন বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বক্তারা
আরও বলেন, একজন মানুষের বড়ত্ব শুধু অর্থ-সম্পদে নয়, মানুষের জন্য কতটা
ভালোবাসা রেখে যেতে পেরেছেন—সেটিই তাঁর প্রকৃত পরিচয়। মরহুম হাজী আব্দুল
মমিন মজুমদার তাঁর কর্ম ও মানবিকতার মাধ্যমে বিজরার মানুষের হৃদয়ে যে জায়গা
করে নিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
“আজ বিজরা যে আলোয় আলোকিত, সেই আলো জ্বালাতে মমিন সাহেবের অবদান কোনোদিন ভোলার নয়।”-এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
এত
বড় মাপের একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হয়েও তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত
সাদাসিধে। অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থান কখনো তাঁকে অহংকারী করে তুলতে
পারেনি। মানুষের কল্যাণে নীরবে কাজ করে যাওয়াই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম
ব্রত।
হাজী জুনাব আলীর সভাপতিত্বে আলোচনায় ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন বিজরা
নেছারিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মো: মূসা,অধ্যক্ষ
মাওলানা আমিনুল ইসলাম আনসারী,যমুনা ব্যাংক বিজরা শাখার সাবেক ম্যানেজার
ইকবাল হোসেন, বিজরা বাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন বাহার,
মরহুমের বড় ছেলে আবু সুফিয়ান মারুফ, ভাগ্নে মো: মিজানুর রহমানসহ বিজরা
বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি,
স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে মরহুম হাজী আব্দুল মমিন মজুমদারের আত্মার শান্তি ও রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মানুষ
চলে যায়, কিন্তু তাঁর ভালো কাজগুলো থেকে যায়।মরহুম হাজী আব্দুল মমিন
মজুমদারও তাঁর মানবিক কর্মের মধ্য দিয়ে বিজরার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
